EN ☀️
×

Follow Us

জীবনযাপন

গ্যাস ছেড়ে বৈদ্যুতিক চুলায় ঝুঁকছে মানুষ

খরচ কম, রান্না দ্রুত, ঝুঁকি কম—তাই বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার

জীবনযাপন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

গ্যাস ছেড়ে বৈদ্যুতিক চুলায় ঝুঁকছে মানুষ

গ্যাসের বদলে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করে টাকা বাঁচাচ্ছেন অনেক পরিবার।

অ অ

গ্যাসের দাম বেশি। সিলিন্ডারও দুষ্প্রাপ্য। তাই অনেক পরিবার এখন গ্যাসের চুলা ছেড়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনছেন। দেশের বড় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটন জানিয়েছে, তাদের বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রথম কারণ টাকা। ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১,৫৯৮ টাকা। কিন্তু বাজারে এটি কিনতে লাগে ১,৬৫০ থেকে ১,৭৫০ টাকা। একটি সিলিন্ডারে একটি পরিবারের রান্না চলে বড়জোর ২৫ থেকে ৩০ দিন। তাই মাসে গ্যাসের খরচ প্রায় ১,৭০০ টাকা। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করলে মাসে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল আসে মাত্র ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা। এতে মাসে প্রায় ৮০০ টাকা বাঁচে।

দ্বিতীয় কারণ সময়। গ্যাসের চুলায় আগুনের তাপের অর্ধেকের বেশি নষ্ট হয়ে যায় বাতাসে। কিন্তু বৈদ্যুতিক চুলায় সরাসরি পাত্রের তলা গরম হয়। তাই তাপ কম নষ্ট হয়। ফলে রান্না হয় গ্যাসের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দ্রুত।

তৃতীয় কারণ নিরাপত্তা। বৈদ্যুতিক চুলায় গ্যাস লিক হওয়ার ভয় নেই। সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকিও নেই। চুলাগুলো হালকা। তাই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া সহজ।

তবে এর একটা সমস্যাও আছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকাল ও দুপুরে একসঙ্গে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা চালায়। এতে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুতের ওপর চাপ বাড়ে। ফলে লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

গ্যাস সংকটের মূল কারণও স্পষ্ট। এলএনজি টার্মিনালে জটিলতা আছে। দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রেও মজুদ কমে যাচ্ছে। এই দুই কারণেই গ্যাস সংকট বেড়েছে। তাই মানুষ এখন বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।

বিদ্যুৎ বিল কম রাখতে যা করবেন

ইনফ্রারেড বা ইনডাকশন চুলায় সবসময় সমতল ও ভারী পাত্র ব্যবহার করুন। এতে তাপ দ্রুত ছড়ায়। সেদ্ধ করার সময় পাত্রের ঢাকনা লাগিয়ে রাখুন। এতে রান্না ৩০ শতাংশ দ্রুত হয়।

রান্না শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগেই চুলা বন্ধ করুন। পাত্রের জমে থাকা তাপেই বাকি রান্না হয়ে যাবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভারী রান্না এড়িয়ে চলুন। এই সময় বিদ্যুতের লোড ও রেট বেশি থাকে।


আরও পড়ুন