হানি ট্র্যাপ চিনবেন কীভাবে, বাঁচবেন কীভাবে
মাতা হারির যুগ পেরিয়ে হানি ট্র্যাপ এখন ঢুকে পড়েছে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে, প্রতিদিনের জীবনে। জেনে নিন ফাঁদ চেনার উপায়
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
মাতা হারি ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিখ্যাত নর্তকী ও গুপ্তচর। তার মতো নারীদের ব্যবহার করে শত্রুশিবিরের গোপন তথ্য হাতানো হতো স্নায়ুযুদ্ধের দিনগুলোতেও। এই কৌশলকে বলা হয় হানি ট্র্যাপ। তবে দিন বদলেছে। এখন হানি ট্র্যাপ শুধু গোয়েন্দা সংস্থার কাজ নয়। স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই ফাঁদ ঢুকে পড়েছে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনেও।
সাইবার অপরাধ ও মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটু সতর্ক থাকলেই এই ফাঁদ চেনা যায়।
পরিচয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই কেউ যদি নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করে ফেলে, তা স্বাভাবিক নয়। এমন আচরণকে বলা হয় লাভ বম্বিং। দেখা হওয়ার আগেই কেউ আকাশচুম্বী ভালোবাসা দেখালে সতর্ক থাকা জরুরি।
প্রোফাইল ছবি ঠিক থাকলেও ভিডিও কলে দেখা করতে চাইলে অনেকে নানা অজুহাত দেখায়। কখনো ক্যামেরা নষ্ট, কখনো নেটওয়ার্ক সমস্যা। কেউ কেউ আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিও বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও দেখিয়ে বিভ্রান্ত করে।
মিষ্টি কথার আড়ালে তারা জেনে নেয় আপনার পেশা, পারিবারিক অবস্থা, আয় ও একাকিত্বের বিষয়গুলো। এই কৌশলের নাম সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং।
সম্পর্ক কিছুটা এগোলে ভিডিও কলে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত তৈরির জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই সময় গোপনে স্ক্রিন রেকর্ড করে রাখা হতে পারে, যা পরে ব্ল্যাকমেলের কাজে লাগে।
ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে হঠাৎ কোনো বিপদের গল্প সাজানো হয়। পরিবারের কারও অসুস্থতা বা আইনি ঝামেলার কথা বলে টাকা চাওয়া হয়।
যেভাবে সচেতন হবেন
জটিল কোনো প্রযুক্তি ছাড়াই কিছু সহজ সতর্কতা মেনে এই ঝুঁকি এড়ানো যায়।
অচেনা কারও ছবি সন্দেহজনক মনে হলে গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখে নিন। অনেক প্রতারক অন্যের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলে।
লোকেশন, ভ্রমণের তথ্য বা পারিবারিক ও আর্থিক তথ্য প্রকাশ্যে শেয়ার করবেন না।
ভিডিও কলে বা চ্যাটে এমন কিছু শেয়ার করবেন না, যা পরে বিব্রতকর হতে পারে। অপরিচিত কাউকে কখনো টাকা পাঠাবেন না।
ফাঁদে পড়ে গেলে করণীয়
অনেকে সামাজিক সম্মান হারানোর ভয়ে প্রতারকের দাবি মেনে টাকা দিতে থাকেন। তবে এতে ব্ল্যাকমেল কমে না, বরং বাড়তে থাকে।
ভয়ে চ্যাট হিস্ট্রি মুছে ফেলবেন না। সব স্ক্রিনশট, অডিও-ভিডিও ও টাকা পাঠানোর তথ্য প্রমাণ হিসেবে রেখে দিন।
তর্ক বা মীমাংসার চেষ্টা না করে অপরাধীর অ্যাকাউন্ট ব্লক করুন এবং টাকা দেওয়া বন্ধ করুন।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ অথবা বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ও পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (পিসিএসডব্লিউ)-এ যোগাযোগ করুন। বিশেষায়িত এই পুলিশ ইউনিট ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রেখেই আইনি ব্যবস্থা নেয়।