মন ভালো রাখতে অবসরে যা করবেন
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে অবসরের সময়টুকু যদি পুরোটাই কেটে যায় ফোনের স্ক্রিনে, তাহলে মন আসলে বিশ্রাম পায় না
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
বই পড়া, হাঁটাহাঁটি বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—ফোন দূরে রেখে এমন কিছু অভ্যাসই মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। ছবি: সংগৃহীত
দিনের শেষে কাজ থেকে ফিরে বিশ্রামের সময়টুকু আজকাল প্রায় পুরোটাই কেটে যায় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল, ভিডিও দেখা কিংবা মেসেজিং অ্যাপে ডুবে থাকা—এসবের ফাঁকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত অবসর, যা মন ও শরীরকে সত্যিকারের প্রশান্তি দিতে পারত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোন থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে কিছু সাধারণ অভ্যাস চর্চা করলে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়, ঘুমের মান বাড়ে এবং সম্পর্কগুলোও হয়ে ওঠে আরও গভীর।
বই পড়া
একটা সময় বইয়ের পাতা উল্টানো ছিল অবসরের প্রধান সঙ্গী। এখন সেই জায়গা দখল করেছে স্ক্রল করা ফিড। প্রতিদিন মাত্র ২০-৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, মনোযোগ বাড়ায় এবং ঘুমানোর আগে মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
হালকা ব্যায়াম
সন্ধ্যায় বা সকালে ফোন ছাড়া ২০-৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি শরীরচর্চার পাশাপাশি মনকেও চাঙা রাখে। প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে, সৃজনশীলতাও বাড়ে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
নতুন কিছু শেখা
রান্নাঘরে সময় কাটানো, নতুন কোনো রেসিপি চেষ্টা করা কিংবা হাতের কাজ (যেমন বাগান করা, ছবি আঁকা) মনোযোগ ও সৃজনশীলতাকে জাগিয়ে তোলে। এসব কাজে মন এতটাই নিমগ্ন থাকে যে ফোনের কথা মনেই পড়ে না।
কাছের মানুষের সঙ্গে কথোপকথন
খাবার টেবিলে বা সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ফোন সরিয়ে রেখে গল্প করা সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনের এই ছোট্ট অভ্যাসটাই পরিবারের বন্ধনকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে।
ডায়েরি লেখা
দিনের অনুভূতি বা ভাবনা কাগজে লিখে রাখার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর। এটি নিজের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে, যা স্ক্রিনের মধ্যে ডুবে থাকলে সহজে হয় না।
ঘুমানোর আগে ফোনমুক্ত সময়
বিছানায় যাওয়ার অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট আগে ফোন দূরে রাখলে ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। স্ক্রিনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা ঘুম আসতে দেরি করায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তিকে একেবারে বাদ দেওয়া নয়, বরং প্রতিদিনের অবসরের কিছুটা সময় সচেতনভাবে ফোনমুক্ত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ছোট ছোট এই পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বদলে দিতে পারে জীবনযাপনের মান এবং মানসিক প্রশান্তি।