EN ☀️
×

Follow Us

জীবনযাপন

বিশ্বকাপ ফাইনাল: রাত জেগে খেলা দেখার পুরো সময়টায় কী খাবেন, কী এড়াবেন?

পুষ্টিবিদদের মতে, গভীর রাতে ভারী খাবার খেলে বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাসের সমস্যা এবং পরদিন সকালে তীব্র ‘ব্রেন ফগ’ বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

বিশ্বকাপ ফাইনাল: রাত জেগে খেলা দেখার পুরো সময়টায় কী খাবেন, কী এড়াবেন?

ঝাল-মশলাদার খাবারের পাশাপাশি হালকা কিছু চাইলে মচমচে পপকর্নও হতে পারে ফাইনালের রাতের সঙ্গী। প্রতীকী ছবি

অ অ

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। সোমবার রাত ১টায় শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মেগা ফাইনাল। খেলা অতিরিক্ত সময় এবং টাইব্রেকার পর্যন্ত গড়ালে শেষ হতে হতে ভোর ৪টা বেজে যাবে। টানা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার এই টানটান উত্তেজনার রাতে আমাদের হার্ট রেট এবং মানসিক চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়।

সাধারণত মধ্যরাতে খেলা দেখার সময় আমাদের চিপস, কোল্ড ড্রিংকস, বার্গার বা ভাজাপোড়া খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, গভীর রাতে এই ধরণের ভারী খাবার খেলে বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাসের সমস্যা এবং পরদিন সকালে তীব্র ‘ব্রেন ফগ’ বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তাহলে সোমবার রাতের এই ঐতিহাসিক ফাইনাল উপভোগ করার পুরো সময়টায় আপনার হাতের কাছে কী কী স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস ও পানীয় রাখা উচিত?

লেবুর শরবত বা ডাবের পানি

খেলার টানটান উত্তেজনায় শরীর থেকে প্রচুর পানি ও খনিজ উপাদান ক্ষয় হয়, বিশেষ করে এই ভ্যাপসা গরমে। খেলা শুরুর আগে বা হাফটাইমের বিরতিতে এক গ্লাস পুদিনা পাতার লেবুর শরবত, ডাবের পানি অথবা সামান্য গ্লুকোজের পানি পানের অভ্যাস শরীরকে তাৎক্ষণিক চনমনে করে তুলবে।

অতিরিক্ত কোল্ড ড্রিংকস বা এনার্জি ড্রিংকস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এগুলোর উচ্চ চিনি ও ক্যাফেইন আপনার রক্তচাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মসলা মুড়ি বা পপকর্ন

খেলা দেখার সময় মুখে কিছু না রাখলে যেন বাঙালির চলেই না। তবে চিপসের বিকল্প হিসেবে হালকা কিছু বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সামান্য সরিষার তেল, চানাচুর, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ দিয়ে মাখানো মসলা মুড়ি অথবা ঘরে তৈরি বাটার-ছাড়া পপকর্ন। এগুলো চিবানোর কারণে আপনার রাতের ঘুম ঘুম ভাব কেটে যাবে, অথচ পেটে কোনো ভারী ভাব তৈরি করবে না।

বাদাম, খেজুর ও কলা

ম্যাচ যখন দ্বিতীয় হাফ বা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, তখন শরীরের এনার্জি লেভেল প্রাকৃতিকভাবেই কমতে শুরু করে। এক মুঠো কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা পেস্তা বাদাম চিবিয়ে খেতে পারেন। বাদামের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্ককে সচল রাখে। এছাড়া ১টি কলা বা ২টি খেজুর আপনাকে তাৎক্ষণিক প্রাকৃতিক এনার্জি দেবে, যা টানটান উত্তেজনার পেনাল্টি শুট-আউটের সময় আপনার হার্ট ও নার্ভকে শান্ত রাখতে সাহায্য করবে।

ফলমূলের ফ্রুট সালাদ

যদি মিষ্টি কিছু খাওয়ার ইচ্ছা জাগে, তবে পেস্ট্রি বা চকলেটের দিকে হাত না বাড়িয়ে ফ্রিজে থাকা ফলমূল (যেমন- আপেল, নাশপাতি বা তরমুজের টুকরো) দিয়ে একটি ছোট ফ্রুট সালাদ বানিয়ে নিতে পারেন। এটি আপনার শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করবে।

গ্রিন টি বা লাল চা

অনেকেই রাত জাগার জন্য কাপের পর কাপ কড়া কফি বা দুধ-চা খান। এটি সোমবার রাতের ঘুম তাড়ালেও সকালের কর্মক্ষেত্রে আপনার মেজাজ খিটখিটে করে দেবে এবং তীব্র মাথা ব্যথার কারণ হবে। তাই রাত ৩টার পর কফি না খেয়ে হালকা একটু গ্রিন টি বা আদা দিয়ে লাল চা খেতে পারেন।

ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল চার বছরে একবারই আসে, তাই উদযাপন হবে ধুমধাম করেই। তবে সোমবার রাতের খাবারের এই ছোট ছোট সচেতনতা আপনাকে শুধু খেলাই উপভোগ করাবে না, বরং সকালে ঘুমহীন চোখেও কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও চনমনে রাখতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন