মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে কি পুষ্টিগুণ কমে যায়?
মাইক্রোওয়েভে খাবার খুব দ্রুত গরম হয়। তাপের সংস্পর্শে খাবার যত কম সময় থাকে, পুষ্টিগুণ তত বেশি বজায় থাকে।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক ব্যস্ত জীবনে মাইক্রোওয়েভ ওভেন এখন অপরিহার্য। ঝটপট খাবার গরম করা থেকে শুরু করে রান্না- সবকিছুতেই এর জুড়ি নেই।
তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়- মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে কি এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়? কিংবা এতে রান্না করা খাবার কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
মাইক্রোওয়েভ কোনো তেজস্ক্রিয় রশ্মি দিয়ে খাবার গরম করে না। এটি মূলত ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক’ তরঙ্গ ব্যবহার করে খাবারের ভেতরে থাকা পানির অণুগুলোকে দ্রুত কাঁপাতে থাকে। এই ঘর্ষণের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় এবং খাবার গরম হয়। এটি কোনোভাবেই খাবারের আণবিক গঠন পরিবর্তন করে তাকে বিষাক্ত করে তোলে না।
যেকোনো পদ্ধতিতে খাবার রান্না বা গরম করলেই কিছু না কিছু পুষ্টি উপাদান (বিশেষ করে ভিটামিন-সি এবং বি-কমপ্লেক্স) তাপের কারণে নষ্ট হয়।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোওয়েভ আসলে অন্য অনেক পদ্ধতির চেয়ে পুষ্টি সংরক্ষণে বেশি কার্যকর। মাইক্রোওয়েভে খাবার খুব দ্রুত গরম হয়। তাপের সংস্পর্শে খাবার যত কম সময় থাকে, পুষ্টিগুণ তত বেশি বজায় থাকে। চুলায় সেদ্ধ করলে অনেক সময় পুষ্টি উপাদান পানির সাথে বেরিয়ে যায়। মাইক্রোওয়েভে খুব সামান্য পানিতে বা পানি ছাড়াই খাবার গরম করা যায় বলে পুষ্টি উপাদান খাবারের ভেতরেই থাকে।
সাধারণ প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করলে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর রাসায়নিক (যেমন: বিপিএ) খাবারের সাথে মিশে যেতে পারে। তাই সবসময় ‘মাইক্রোওয়েভ সেফ’ কাঁচ বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করা উচিত।
মাইক্রোওয়েভে খাবার সব জায়গায় সমানভাবে গরম হয় না। তাই মাঝেমধ্যে খাবার নেড়ে দেওয়া উচিত যাতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বেঁচে না থাকে।
পুষ্টিবিদদের মতে, শাকসবজি সেদ্ধ করার চেয়ে মাইক্রোওয়েভে ‘স্টিম’ বা ভাপে গরম করা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে সবজির রঙ এবং ভিটামিন অটুট থাকে। তবে অতিরিক্ত তাপ দিয়ে খাবার একদম শুকিয়ে ফেলা উচিত নয়।
সঠিক পাত্রে এবং সঠিক সময়ে খাবার গরম করলে মাইক্রোওয়েভ ওভেন আপনার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি করে না, বরং এটি পুষ্টি সংরক্ষণের একটি আধুনিক ও নিরাপদ মাধ্যম। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে এর সুবিধা উপভোগ করতে পারেন।