রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, আয়াশসহ ৪ জনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে গণপূর্তের সীমানাপ্রাচীরে আঁকা গ্রাফিতি মুছে ফেলা এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো কালি মাখানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদন করা চারজন হলেন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াশ, মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মার্জিয়া খন্দকার রিমি (২৬)।
রোববার (১১ অক্টোবর) শাহবাগ থানা-পুলিশ তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে। এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে গণপূর্তের সীমানাপ্রাচীরের সামনে থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন পালিয়ে যান।
আবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে গণপূর্তের সীমানাপ্রাচীরে বাংলাদেশ, শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর আয়াশ ওই সীমানাপ্রাচীরে আঁকা গ্রাফিতিগুলো চুনকাম করে মুছে ফেলার ঘোষণা দেন। পরদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়াশসহ অন্যরা সেখানে জড়ো হন।
রিমান্ড আবেদনে আয়াশের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানে অবস্থিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দাদা-দাদির কবর জিয়ারতে গেলে জিন্নাহর কবরও দেখে আসা যেতে পারে। জিন্নাহর নামফলকে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাও লেখা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিন্নাহকে অকারণে গালাগাল করা রাজনৈতিকভাবে অনুচিত।
আবেদনে মার্জিয়া খন্দকার রিমির বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়। তিনি সেখানে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এসেছেন বলে দাবি করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারিতে মুসলমানদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো দেয়ালে রবীন্দ্রনাথের ছবি দেখতে চান না। এরপর তিনি রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালো কালি মাখান বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ১২০বি, ১৫৩এ ও ২৯৫এ ধারায় মামলা করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা কার নির্দেশে, কেন এবং কার সহযোগিতায় ঘটনাটি ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্য দিতে এড়িয়ে গেছেন। মামলার ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
