বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য
সাক্ষাৎকার - ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা
পরীক্ষিত বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাই থাকছে বাজেটে। আমরা কোনো স্বপ্নের মধ্যে নেই, আমরা আছি বাস্তবতার মধ্যে। বাজেট বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব আয় বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। দেশের অর্থনীতি এখন এক কঠিন সময় পার করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, ডলারসংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং রাজস্ব ঘাটতি সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটা কঠিন সময় পার করছে বলে মনে করেন তিনি। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজেট বাস্তবায়ন, পাচারের টাকা ফেরত আনা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, আসন্ন বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হবে কি না? চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিশদভাবে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মানিক মুনতাসির
বাংলাদেশ প্রতিদিন : সামনে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট। নতুন বাজেটে আপনার দৃষ্টিতে প্রধান চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকারগুলো কী কী?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : আমরা এখন কঠিন এক ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছি। এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতির ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। গত কয়েক বছরে অনিয়ম-দুর্নীতি, সীমহীন লুটপাট বৈশ্বিক অস্থিরতা, ডলারসংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ কিছু নীতিগত দুর্বলতার কারণে অর্থনীতি চাপের মধ্যে পড়েছে। এখন সরকারকে একদিকে উন্নয়ন ব্যয় চালিয়ে যেতে হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। বাজেট বড় করলেই হবে না, সেটি বাস্তবায়নের সক্ষমতাও থাকতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব দিতে হচ্ছে আর্থিক শৃঙ্খলা ও দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কী ধরনের বার্তা থাকবে?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : আমরা মানুষের জীবনকে সহজ করার চেষ্টা করছি। জীবনযাত্রার ব্যয় যেন কমিয়ে আনা যায় সে উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এজন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই। বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুযোগ এখনো রয়েছে। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বাস্তবভিত্তিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক সংস্কারই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : বর্তমানে অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংকট কোনটি?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে। শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকটও বড় সমস্যা। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং কিছু ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতির কারণে আর্থিক খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই তিনটি বিষয় মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এখন অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সবগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা বাজেটে থাকবে। এবং সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করা হবে ধাপে ধাপে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মুল্যস্ফীতি বিরাজ করছে এই চাপ নিয়ন্ত্রণে বাজেটে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজার তদারকি বাড়ানো হচ্ছে। খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কৃষি উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমদানি ব্যবস্থাপনাও সহজ করার চেষ্টা চলছে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণও মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরাসরি সহায়তা বাড়ানো না গেলে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য আসন্ন বাজেটে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা জালের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : দেশে বিপর্যস্ত ব্যাংক খাতের সংস্কার কতটা জরুরি?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যাংকে অনিয়ম, দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করে ব্যাংক খাতকে বিপর্যস্ত করে ফেলা হয়েছে। এজন্য ব্যাংক খাতের সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমানতকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুশাসন নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, ব্যাংক একীভূতকরণ এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী না হলে বিনিয়োগ বাড়বে না। আর বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন কোনোটাই বাড়বে না। আমরা এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছি। সেগুলোর বাস্তবায়ন ও বিস্তারিত চিত্র ১১ জুনের বাজেটে আপনারা দেখতে পাবেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার কথা বলছেন, আবার একজন ব্যবসায়ী গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এ ব্যাপারে আপনার অবস্থান কী?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : দেখুন বাংলাদেশ ব্যাংকে যাকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি তো অত্যন্ত দক্ষ এ খাতের জন্য। তিনি সবেমাত্র কাজ শুরু করেছেন। আপনারা কিছুদিন তো দেখবেন তারপর না হয় সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে পর্যালোচনা করবেন। আর হ্যাঁ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি মুদ্রানীতি রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদাররাও এখন এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাধীন ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : প্রতি বছরই রাজস্ব ঘাটতি বাড়ে, এবার রাজস্ব আয় বাড়াতে সরকারের কৌশল কী?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : এবারের বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়ানো বড় লক্ষ্য। তবে শুধু করের হার বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয়। করের আওতা বাড়াতে হবে। নতুন করদাতা যুক্ত করতে হবে। সরকার এখন রাজস্ব ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করার দিকে যাচ্ছে। ই-ট্যাক্স ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অটোমেশন বাড়ানো হচ্ছে। এতে কর ফাঁকি কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। অনেক বছর ধরে সীমিতসংখ্যক মানুষ কর দিয়ে আসছে। এই নির্ভরতা কমিয়ে করজাল সম্প্রসারণ জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাধা কোথায়? কোনো সরকারই কেন এটা বাড়াতে পারে না।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট। দ্বিতীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। তৃতীয় ঘন ঘন নীতির পরির্তন। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলত নীতির ধারাবাহিকতা, জবাবদিহি এবং সহজ ব্যবসা পরিবেশ দেখতে চান। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার ধীরগতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, ডলারসংকট এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে। সরকার এখন ওয়ান-স্টপ সার্ভিস শক্তিশালী করা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এসব সমস্যা কমানোর চেষ্টা করছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, বৈদেশিক বিনিয়োগ শুধু মূলধন আনে না, প্রযুক্তি ও দক্ষতাও নিয়ে আসে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাজেটের মূল লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : কর্মসংস্থান এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। তরুণদের জন্য নতুন চাকরি সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। শুধু সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর করলে হবে না। বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। শিল্প খাত, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা বাড়াতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ ভবিষ্যতের শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এতে অপচয় কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সময়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও কার্যকর করা খুবই জরুরি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সরকার এখন প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে না পারলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী হলেও অসম্ভব নয়। তবে এজন্য ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন। শুধু প্রবৃদ্ধি বাড়ালেই হবে না, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে। ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতির ধারাবাহিকতা। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ দীর্ঘ মেয়াদে বড় অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : কালোটাকা সাদা করা ও পাচারের টাকা ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী?
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর : পাচারের অর্থ ফেরত আনা মোটেও সহজ নয়। এটার জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরন করতে হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাস হলো। এরই মধ্যে আমরা কার্যকর কিছু পদক্ষেপও নিয়েছি। আপনারা এগুলোর বিস্তারিত ১১ জুনের বাজেটেও পাবেন। আর কালোটাকা সাদা করার প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো পন্থা থাকলে আমরা সেটাই অনুসরণ করব। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন]