সাত শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: ইরান
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনকে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে ইরান। শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিও খুলবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেন, কূটনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না কিংবা কোনো আলোচনায় বসবে না ইরান।
ইরানের সাত শর্ত কী?
শর্তগুলোর আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেনি তেহরান। তবে খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
২. ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
৩. ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
৪. বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা।
৫. মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো।
৬. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৭. ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ করা।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ট্রাম্পের হামলার হুমকিতে বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা যখন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছেন, তখন নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আবারও শুরু হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নাকচ করেননি ট্রাম্প। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরু হলে আরও ব্যাপক পাল্টা হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান।
এরপর লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত ইয়েমেনেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে ইরানঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।