যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আলোচনায় আব্দুল এল-সায়েদ, জিতবেন কি?
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত প্রার্থী হয়ে উঠেছেন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট পদপ্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ। ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মাইক রজার্স।
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে চূড়ান্ত নির্বাচনে লড়ছেন এল-সায়েদ। তবে শুরু থেকেই নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। সর্বশেষ গতকাল তার দলের প্রাইমারিতে পরাজিত প্রার্থী হেলি স্টিভেনস তার বিরোধিতা করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রাইমারিতে এল-সায়েদের কাছে হেরে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ হারান হেলি স্টিভেনস। সাধারণত প্রাইমারিতে পরাজিত প্রার্থীরা নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে থাকেন। তবে স্টিভেনসের সিদ্ধান্তে সেই রীতির ব্যতিক্রম ঘটেছে।
আব্দুল এল-সায়েদের বাবা-মা মিসরের অভিবাসী। ছোট বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর বাবার ও সৎমায়ের কাছে বড় হয়েছেন তিনি। এবারই প্রথম সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এল-সায়েদ। এর আগে তিনি ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মিশিগানের ভোটের সমীকরণ
মিশিগানের ভোটারদের মধ্যে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইহুদি, মুসলিম ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার আছেন। ফলে এখানকার নির্বাচনী সমীকরণ বেশ জটিল।
নির্বাচনের আগে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এবং ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগের মতো বিষয়গুলো ভোটের লড়াইয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব ইস্যু ভোটারদের সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলে, তার ওপরও নির্ভর করছে সিনেট নির্বাচনের ফলাফল।
অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের জন্যও এটি সিনেটর হওয়ার আরেকটি সুযোগ। মিশিগানের সর্বশেষ সিনেট নির্বাচনে ২০ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মিশিগানে ১৯৯৪ সালের পর রিপাবলিকান পার্টির কোনো প্রার্থী সিনেট নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। এবারও যদি ভোটাররা সেই ধারা বজায় রাখেন, তাহলে এল-সায়েদের বিজয়ের পথ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে মিশিগানের সিনেটর ডেমোক্রেটিক পার্টির গ্যারি পিটার্স। তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে এবার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে আসনটি পুনরুদ্ধারে রিপাবলিকানদের সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এল-সায়েদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থান
আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ ছাড়া রিপাবলিকানরা তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রচারে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
অন্যদিকে এল-সায়েদের পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
সব মিলিয়ে মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—দুই দলেরই আগ্রহ রয়েছে। দলের ভেতরের বিরোধ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোট এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোট গণনা পর্যন্ত।
সূত্র: এপি