হিমালয়ে বাড়ছে বিপর্যয়ের ঝুঁকি, বিপদে তিন লাখ মানুষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
হিমালয়ের নদীতীরে গড়ে ওঠা ঘনবসতি ও নির্মাণকাজ।
হিমালয় অঞ্চলের কিছু অংশে অন্তত তিন লাখ মানুষ বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন। ব্রিটেন, নেপাল ও ভারতের গবেষকদের একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে, যা সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। উপগ্রহভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পর্যটন, জলবিদ্যুৎ ও আবাসন প্রকল্পের কারণে নদী ও হিমবাহ-হ্রদের কাছে নির্মাণকাজ দ্রুত বাড়ছে।
২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে উত্তর নেপাল, দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বত ও ভারতের উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয়প্রবণ এলাকায় ভবন ও স্থাপনায় ঢাকা জমি প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। হিমবাহ-হ্রদ থেকে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় এ হার প্রায় ৭৮ শতাংশ। গবেষকেরা ১ হাজার ৩৬১টি হিমবাহ-হ্রদের ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিচের এলাকা পরীক্ষা করেছেন। তাঁদের মতে, আশপাশের একই ধরনের এলাকা যুক্ত করলে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
গবেষণাটি নেপালে আগস্টের ভয়াবহ বন্যার আগে করা হয়েছিল। ২৬ আগস্টের ওই বন্যায় ১ হাজার ৪০০-র বেশি মানুষ মারা যান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১১ অক্টোবর বুধি গণ্ডকি নদীর বন্যায় ২০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পাঁচটি সেতু ভেসে যায় ও পাঁচজন নিখোঁজ হন।
পর্যটননগরী পোখরার মেয়র ধনরাজ আচার্য জানান, নদীর তীরে অনেক পুরোনো ভবন মাত্র পাঁচ মিটার দূরে। অন্নপূর্ণা এলাকার হোমস্টে মালিক ফুরপা শিরিং লামা বলেন, ভরা মৌসুমেও তাঁর ২০টি কক্ষের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে অতিথি আছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমালয়ে তাপমাত্রা বিশ্বের গড়ের দ্বিগুণ গতিতে বাড়ছে। এতে হিমবাহ গলে হ্রদ ভেঙে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। নেপালে ১৯৪০ সাল থেকে এমন প্রায় ৩০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ বলেন, জলবায়ু সংকটের জন্য নেপালকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হচ্ছে।
নেপাল সরকার রাসুয়া-ভোটেকোশি এলাকায় নদীর ১৫ মিটারের মধ্যে বসতি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। উত্তরাখণ্ড সরকার ১২ অক্টোবর বন্যাপ্রবণ এলাকায় নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মের কঠোর প্রয়োগই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।