ফ্লোরিডার আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়লো বিমান, ৯ আরোহী নিহত
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকায় নয়জন আরোহী নিয়ে একটি ‘বিজনেস জেট’ বিমান উল্টো হয়ে আছড়ে পড়েছে। বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই বিমানে আগুন ধরে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সব আরোহী নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন সচিব শন ডাফির বরাত দিয়ে মার্কিন নিউজ এজেন্সি এপি জানিয়েছেন, বিমানে লাগা আগুনে সড়কের পাশে থাকা ঘরবাড়িগুলো অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, লিয়ারজেট ৬০ মডেলের বিমানটি শনিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাম বিচ কাউন্টিতে বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি এটিকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে বর্ণনা করেন।
ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)-এর তদন্তে সহায়তার জন্য একটি দল পাঠাচ্ছে বলে তিনি জানান।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস বলেছেন, মাটিতে থাকা কোনো ব্যক্তি আহত বা নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পাম বিচ কাউন্টির শেরিফ কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনাটি ফ্লোরিডার গ্রিনঅ্যাক্রেস নামক এলাকায় ঘটেছে, যা ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে প্রায় ৭ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি শহর।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের ডিসান্টিস বলেন, ‘এটি দেখতে একদম একটি নিচের দিকে নেমে আসা মিসাইলের মতো লাগছিল এবং রাস্তার পাশে একটি বিশাল গর্ত তৈরি করেছে।’
রবিবার ওই অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত সেখানে বন্যা সতর্কতা জারি ছিল।
ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং বাহামার দিকে যাচ্ছিল। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ বা এতে কারা ছিলেন তা জানায়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিং অনুযায়ী, বিমানটি ৩৫,০০০ ফুট (প্রায় ১১ কিলোমিটার) উচ্চতায় পূর্ব দিকে যাচ্ছিল, যখন পাইলটরা তীব্র ঝড়ো বাতাস, বরফ জমা এবং বৃষ্টির কথা রিপোর্ট করেন। এসময় আরও ২,০০০ ফুট (প্রায় ৬১০ মিটার) উপরে ওঠার অনুরোধ জানান।
এর কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি খাড়া নিচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০,০০০ ফুট এবং একপর্যায়ে প্রতি মিনিটে ৩০,০০০ ফুট গতিতে নিচে নামতে থাকে, যা বিমানটির ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি গতি তৈরি করে।
পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ডিসট্রেস কল পাঠান। মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগে বিমানটি তীব্রভাবে ডান দিকে হেলে পড়েছিল।
লাইভএটিস- এ ধারণ করা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিং অনুযায়ী, পাইলট কন্ট্রোলারদের বলেন, ‘‘আমাদের এখানে হালকা, পরিষ্কার বরফ জমছে যা নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং মাঝারি ধরনের টার্বুলেন্স রয়েছে।’’
কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়ে আরও উপরে ওঠার অনুরোধ জানানোর পরই বিমানটি আশঙ্কাজনক হারে উচ্চতা হারাতে শুরু করে।
পাইলট রেডিওতে শেষ বার্তা দেন, ‘‘আমাদের গতিসীমা অতিরিক্ত হয়ে গেছে , আমরা প্রতি মিনিটে ২০,০০০ ফুট গতিতে নিচে নামছি। আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।’’
অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র জিম রেনল্ডস জানিয়েছেন, জেটটি একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বিমান ছিল। তবে ফ্লাইটে কারা ছিলেন সে সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।
বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্টিভ অ্যারোয়ো বলেন, বরফ জমা এবং তীব্র টার্বুলেন্স এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে এবং এর ফলে ৩৪,০০০ ফুট উচ্চতায় ওড়ার সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্থবির হয়ে যেতে পারে।
তবে এনটিএসবি পাইলটের সাড়াদানসহ সম্ভাব্য সব বিষয় খতিয়ে দেখবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না।
ফেডারেল কর্মকর্তারা দুর্ঘটনা তদন্ত করার সময় পাম বিচ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ পাশের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটি থেকে প্রায় ৬০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই সড়কটি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।