বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ইলিয়ানা ইয়োতোভা
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
ইলিয়ানা ইয়োতোভা
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গণনার প্রাথমিক ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। বিভিন্ন জরিপ সংস্থার হিসাবে, তিনি প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে গিউরভ পেয়েছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ।
রবিবার (১ নভেম্বর) ভোট গণনার পর প্রকাশিত প্রাথমিক ফলে এ চিত্র উঠে এসেছে। ফল চূড়ান্ত হলে ৬২ বছর বয়সি ইয়োতোভা হবেন বুলগেরিয়ার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট। পরাজয় মেনে নিয়ে গিউরভ বলেছেন, জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে হবে। সোমবারের আগে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের সম্ভাবনা নেই।
এ নির্বাচনে ইয়োতোভাকে সমর্থন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভের রাশিয়াপন্থি হিসেবে পরিচিত প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া পার্টি। গত এপ্রিলের সংসদ নির্বাচনে ২৪০ আসনের মধ্যে ১৩১টি পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দলটি। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইয়োতোভা জয়ী হলে প্রেসিডেন্টের পদও ক্ষমতাসীন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এক পক্ষের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
গত জানুয়ারিতে রাদেভ প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন ইয়োতোভা। এবার সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের মেয়াদ নিশ্চিত করতে লড়ছেন তিনি।
ইয়োতোভা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে। রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষেও তাঁর অবস্থান রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ভোট দেওয়ার পর ইয়োতোভা বলেন, তিনি এমন একটি বুলগেরিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যে দেশ নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম। নির্বাচনের আগে টেলিভিশন বিতর্কে তিনি বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বুলগেরিয়া ২০০৪ সালে ন্যাটো এবং ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়। দেশটির অধিকাংশ রাজনৈতিক দল পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে দেশটির জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে রাশিয়ার প্রতি সমর্থন রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এ বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট সরাসরি সরকার পরিচালনা না করলেও পদটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, সংসদে পাস হওয়া আইনে ভেটো দিতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।