EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আস্থার সংকটে ভুগছে সানচেজের সরকার

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আস্থার সংকটে ভুগছে সানচেজের সরকার

মাদ্রিদে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুইটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: বিবিসি

অ অ

স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির রাজধানীতে ঘটেছে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। মাদ্রিদের দক্ষিণে টোলেডোর লস ইয়েবেনেসের কাছে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুইটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  দ্বিতীয়বারের মতো এই জাতীয় বিপর্যয় প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

মাত্র নয় মাস আগে কর্ডোবার কাছে অন্য একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্পেনে একটি আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে ঘটা এই জাতীয় দুর্যোগ সানচেজ প্রশাসনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে চরম সংকটে ফেলে দিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত মাত্র শুরু হলেও, সরকার দ্রুত নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। স্পেনের পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে প্রথম থেকেই এই দুর্ঘটনার পেছনে কারিগরি ত্রুটির চেয়ে মানবিক ভুলকে দায়ী করছেন।

তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, স্পেনের উচ্চ-গতির সিগন্যালিং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘এলজেডবি’ সম্পূর্ণ আধুনিক এবং জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশগুলোও এটি ব্যবহার করে।

মন্ত্রী জানান, সিগন্যালিং ব্যবস্থা সাময়িক বিঘ্নিত হওয়ার পর যখন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ম্যানুয়াল বা মানবচালিত করা হয়, তখন এক নিয়ন্ত্রক একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের দিকে অন্য ট্রেনকে ১৬০ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সিগন্যাল দেন।

তবে এটি মানবিক ভুল হলেও পুয়েন্তে নিজের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরিস্থিতি সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই দুর্ঘটনা স্পেনের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার সামগ্রিক স্থবিরতার প্রতীক। পরিবেশ এমনিতেই উত্তপ্ত ছিল।

কারণ প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইতিমধ্যে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, মরক্কো থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী সংকট এবং আবাসন খরচের ঊর্ধ্বগতির কারণে তীব্র জনঅসন্তোষের মুখোমুখি হচ্ছিলেন।

সম্প্রতি ৭০ বছর ধরে বসবাস করা এক বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তার জের ধরেই সানচেজ এই আগাম নির্বাচন ডেকেছিলেন।

নির্বাচনী জনমত জরিপ ও বিশ্লেষকদের মতে, দুর্ঘটনার আগেই সানচেজের জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ ছিল। সিমিউলেশন বা পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে কেন্দ্র-ডানপন্থী দল ‘পিপি’ এবং ডানপন্থী দল ‘ভক্স কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

এই দুর্ঘটনার পর সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। মাদ্রিদের প্রধান রেল স্টেশনগুলোতে আতঙ্কিত যাত্রীরা জানাচ্ছেন যে তারা এখন এই উচ্চ-গতির রেল নেটওয়ার্কে ভ্রমণ করতে ভয় পাচ্ছেন।

অনেক ঐতিহ্যবাহী বামপন্থী ভোটারই এখন ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে উগ্র-ডানপন্থী দলগুলোর নেতৃত্বে ছোট ছোট বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ট্রেন দুর্ঘটনা সানচেজ ক্যাম্পের হাত থেকে নির্বাচনী এজেন্ডা সম্পূর্ণ কেড়ে নিয়েছে।

আরও পড়ুন