ইউক্রেইনে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৬
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ এএম
ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেইনের দনিপ্রোর প্রধান রেলস্টেশনে রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। দুই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন।
দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেকসান্দর হাঞ্জা এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউক্রেইনের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা উকরজালিজনিৎসিয়া জানায়, হামলার সময় প্ল্যাটফর্মে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।
হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। তবে রেল সংস্থাটির প্রধান ওলেকসান্দর পারতসভস্কি জানান, বৃহস্পতিবারের হামলার আগে দনিপ্রোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, তবে দুর্ভাগ্যবশত তখনও প্ল্যাটফর্মে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দনিপ্রোর মেয়র বরিস ফিলাতভ ঘটনাটিকে মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার ড্রোনটি সরাসরি একটি বেসামরিক ইলেকট্রিক ট্রেনে আঘাত করেছে।
ইউক্রেইনের উদ্ধারকারী দলের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে প্ল্যাটফর্মে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। চারপাশে পড়ে রয়েছে মরদেহ। কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটির জানালাগুলোও চুরমার হয়ে গেছে।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রুশ বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে হামলা চালিয়েছে, যেখানে সাধারণ কমিউটার ট্রেন ও যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।
এ ঘটনার পর রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জি-সেভেনের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন জেলেনস্কি। একই সঙ্গে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত চুক্তির সমালোচনা করেন তিনি।
ওই চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্রে রুশ ডিজেল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, ইউক্রেইনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভের কেন্দ্রস্থলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। আঞ্চলিক প্রধান ভিয়াচেসলাভ চাউস জানান, এ হামলায় শিশুসহ আরও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
২০২২ সাল থেকে রুশ দখলে থাকা ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়া ওলেশকি শহরে সাময়িক স্থানীয় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা চলার মধ্যেই এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেইনের সামরিক সদস্য ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে।
তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। ইউক্রেইনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ৫২১টি ট্রেনের ইঞ্জিনের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই আক্রান্ত হয়েছে চলতি বছরে।
রেল অবকাঠামোয় হামলার সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ১ হাজার ২০৬টি হামলার বিপরীতে চলতি বছর এ পর্যন্ত হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০টিতে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেইনের বিভিন্ন অবকাঠামোয় রুশ হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে রাজধানী কিইভে দুটি সেতু এবং হামলা চলাকালে একটি মেট্রো ট্রেনে ড্রোন আঘাত হানার ঘটনাও রয়েছে।