বায়ুদূষণে পাকিস্তানে বছরে ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু
দূষণে গড় আয়ু কমছে ৩ দশমিক ৯ বছর, লাহোরে কমতে পারে ৭ বছর
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ এএম
বায়ুদূষণের কারণে পাকিস্তানে মানুষের গড় আয়ু কমছে প্রায় ৩ দশমিক ৯ বছর। দূষিত বায়ুর প্রভাবে দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। একই সঙ্গে বায়ুদূষণের কারণে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫ শতাংশের সমান।
পাকিস্তান এয়ার কোয়ালিটি ইনিশিয়েটিভের (পিএকিউআই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে দেশটির বায়ুদূষণের উৎস, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দূষণ কমানোর সম্ভাব্য উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
‘আনভেইলিং পাকিস্তানস এয়ার পলিউশন: আ ন্যাশনাল ল্যান্ডস্কেপ রিপোর্ট অন হেলথ রিস্কস, সোর্সেস অ্যান্ড সলিউশনস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডি ও পেশোয়ারের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। এতে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন খাতের দূষণকারী পদার্থের নির্গমন নিয়ে সমন্বিত জাতীয় হিসাবের পাশাপাশি একাধিক শহরের বায়ুমান পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে ভূমিতে স্থাপিত পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্য, স্যাটেলাইটের উপাত্ত এবং স্থানীয় কর্মকাণ্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ব্যবহার, যানবাহনের ধরন, শিল্পকারখানার কার্যক্রম এবং বিভিন্ন খাত থেকে নির্গত দূষণকারী পদার্থের হিসাব। বিশ্লেষণে সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম২.৫, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইডের নির্গমন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
লাহোরে দূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশকের ২২ গুণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের লাহোরে বছরে পিএম২.৫-এর গড় ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ১১০ মাইক্রোগ্রামের বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বার্ষিক নির্দেশক মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম। সে হিসাবে লাহোরের বাতাসে এই দূষণকারী কণার মাত্রা নির্দেশক সীমার ২২ গুণেরও বেশি।
দীর্ঘদিন এমন দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে লাহোরের বাসিন্দাদের গড় আয়ু সাত বছর পর্যন্ত কমতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে।
শীতকালে তাপমাত্রার উল্টাবিন্যাসের কারণে শহরটির দূষণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এ সময় বায়ুমণ্ডলে দূষিত কণার ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমে যায়। ফলে দূষিত বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি জমা থাকে।
লাহোরে পিএম২.৫ নির্গমনের সবচেয়ে বড় উৎস পরিবহন খাত। শহরটির মোট নির্গমনের ৩৫ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। এ ছাড়া শিল্পকারখানা থেকে ২৮ শতাংশ এবং ইটভাটা থেকে ১৭ শতাংশ নির্গমন হয়। শীতকালীন আবহাওয়া এসব উৎসের দূষণজনিত প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেয়।
করাচিতে দূষণের প্রধান উৎস শিল্পকারখানা
করাচিতে বায়ুদূষণের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটির মোট দূষণকারী পদার্থের নির্গমনের ৪৯ শতাংশের জন্য দায়ী শিল্পকারখানা।
পাকিস্তানের বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণের উৎসের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও এর স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাপক। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেদনটিতে খাতভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে দূষণকারী পদার্থের নির্গমন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাব্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।