EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

কানাডায় ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ এএম

কানাডায় ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

কানাডায় জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ভিজিটর ভিসা হাতিয়ে নেওয়ার একটি বড় সংঘবদ্ধ চক্র উন্মোচন করেছে দেশটির সীমান্ত রক্ষা সংস্থা (সিবিএসএ)। এই অভিবাসন জালিয়াতির ঘটনায় চার বাংলাদেশি নাগরিক ও তাঁদের এক সহযোগীর বিরুদ্ধে দেশটির আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একই তদন্তের সূত্র ধরে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে কানাডার সাময়িক রেসিডেন্স ভিসা (টিআরভি) আবেদনের চেষ্টার অভিযোগে আরও ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করেছে সংস্থাটি।

সিবিএসএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২২ অক্টোবর ভ্যালিফিল্ড আদালতে অভিযুক্ত চার বাংলাদেশি রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাচ্ছার আলম ভূঁইয়া এবং কাজী নাফিজ আলম হাজির হন। মামলার পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করায় তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩ জুলাই, যখন সিবিএসএ স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ক্যুবেকের মার্সিয়ার শহরের একটি আবাসিক ভবনে যৌথ তল্লাশি চালায়। সেখানে দেশটির অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইনের (আইআরপিএ) একাধিক গুরুতর লঙ্ঘন নজরে এলে আগস্ট মাস থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, এই চক্রটি কানাডিয়ান নাগরিকদের ভুয়া আমন্ত্রক বা ‘হোস্ট’ সাজিয়ে ২০৯ জন বাংলাদেশির নামে মোট ২৪৩টি ভিজিটর ভিসার আবেদন জমা দিয়েছিল। এই বিশাল জালিয়াতি চক্রের সত্যতা মেলায় ২০২৫ সালের ৩ জুন ক্যুবেক ও অন্টারিও প্রদেশের চারটি স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল নথিপত্র এবং কম্পিউটার সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।

বিশাল এই জালিয়াতির পরিধি বিবেচনা করে তদন্তকারীরা প্রাথমিক ধাপে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণসম্পন্ন ৭৯টি ভিসা আবেদনকে কেন্দ্র করে মামলার কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা, ভিসা ফর্মে সত্য তথ্য লুকিয়ে মিথ্যা তথ্য দিতে প্ররোচিত করা এবং দেশটির কঠোর অভিবাসন আইন ভঙ্গের ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই সফল অভিযান নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসঙ্গরী বলেন, ‘‘কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা সততা, ন্যায্যতা এবং আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমাদের এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করতে চায়, তাদের কঠোর আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে।’’

সিবিএসএ-র ক্যুবেক অঞ্চলের আঞ্চলিক মহাপরিচালক এরিক ল্যাপিয়েরে জানান, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়া অপরাধী চক্রগুলোকে ধ্বংস করতে তাঁদের সংস্থা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিবিএসএ-র তথ্যমতে, আইআরপিএ ভঙ্গের দায়ে অপরাধ প্রমাণিত হলে বড় অঙ্কের জরিমানা, কানাডায় প্রবেশে আজীবন নিষেধাজ্ঞা বা দীর্ঘমেয়াদি জেল হতে পারে।

সংস্থাটি ২০২৫ সালে এই আইনে ১৯১টি এবং ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে আরও ৫৫টি নতুন অপরাধমূলক তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুন