জাতিসংঘের মহাসচিব পদে লড়বেন আমিরাতের কূটনীতিক লানা নুসেইবেহ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লানা নুসেইবেহ। ছবি: রয়টার্স
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে যোগ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লানা নুসেইবেহ। বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর প্রার্থিতার মধ্য দিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ পদে মধ্যপ্রাচ্যের একজন প্রার্থী যুক্ত হলেন।
নুসেইবেহ জাতিসংঘে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে এক দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বিশ্বজুড়ে সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় করতে চান তিনি।
রয়টার্সকে নুসেইবেহ বলেন, বিশ্বে সংকট চলার সময় জাতিসংঘ শুধু নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমস্যার সমাধানেও সংস্থাটিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ অধিবেশন চলাকালে কয়েকটি দেশ তাঁকে মহাসচিব পদে প্রার্থী হতে উৎসাহিত করে। এর আগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আমিরাতের সদস্যপদ নিশ্চিত করতে দেশটির প্রচারাভিযানে নেতৃত্ব দেন তিনি। নিউইয়র্কে কর্মরত কূটনীতিকদের মতে, দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে।
মহাসচিব পদে আরেক প্রার্থী কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান। তবে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো প্রার্থীকে নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। গত সপ্তাহের অনানুষ্ঠানিক ভোটে গ্রিনস্প্যানসহ সব প্রার্থীই অন্তত দুজন স্থায়ী সদস্যের বিরোধিতার মুখে পড়েন। নতুন করে ভোটের আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলছে।
২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর সময় জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন করছিলেন নুসেইবেহ। ওই সময় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ সহজ করতে নিরাপত্তা পরিষদের ২৭২০ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণে ভূমিকা রাখেন তিনি। রাফাহ সীমান্তের পরিস্থিতি দেখতে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন বলে জানান নুসেইবেহ।
তবে সুদানে চলমান সংঘাত নিয়ে আমিরাতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তাঁর প্রার্থিতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষকেরা সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) আমিরাতের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগকে বিশ্বাসযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। আমিরাত অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নুসেইবেহ জানান, তিনি আমিরাত সরকারের দায়িত্ব থেকে সাময়িক ছুটি নিয়েছেন। মহাসচিব নির্বাচিত হলে সুদানের মানবিক সংকট মোকাবিলায় মনোযোগ দেবেন তিনি।
নুসেইবেহ নির্বাচিত হলে তিনি হবেন জাতিসংঘের দ্বিতীয় মধ্যপ্রাচ্যীয় মহাসচিব। এর আগে মিসরের বুতরোস বুতরোস-ঘালি এ দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে নুসেইবেহ হবেন সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথম নারী মহাসচিব। তবে তিনি জানিয়েছেন, নারী হওয়ার পরিচয়কে সামনে রেখে প্রার্থিতা করছেন না।
