ডেমোক্র্যাটরা জিতলে ফ্রান্সের মতো জ্বলবে আমেরিকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে দেশটিতে ফ্রান্সের মতো সহিংস অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার কানসাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে প্রচার চালাতে কানসাসে যান ট্রাম্প। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই আসনে এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে মার্শালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সমাবেশে ট্রাম্প ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এসব পরিস্থিতি একপর্যায়ে দাঙ্গা ও লুটপাটে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে এমনটা ঘটতে দেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্রান্সে যখন গির্জার চূড়ায় আগুন জ্বলতে এবং চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পাবে, তখন মনে রেখো, কট্টর ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকার সঙ্গে এমনটাই করতে চায়।’
ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসন, সামাজিক বিভাজন ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্সের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে—এমন দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
### অর্থনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় চাপে রয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
কানসাসের পার্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ট্রাম্প সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে ভোট চান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন ট্রাম্পের শুল্কনীতির সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বকে ‘খামখেয়ালি’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
হ্যামিলটনকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘শ্বেতাঙ্গ হয়ে জন্মানোর জন্য তিনি চান আপনারা অনুতপ্ত হন।’
অন্যদিকে, মার্শালও সমাবেশে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় তুলে ধরেন। তিনি ‘কট্টর ইসলামের’ বিস্তার ঠেকানোর দাবি জানান এবং সমকামীদের অধিকার ও গর্বের মিছিলের প্রতি সমর্থন দেওয়ায় হ্যামিলটনকে কানসাসের জন্য অতিরিক্ত উদারপন্থী বলে মন্তব্য করেন।
মার্শাল বলেন, ‘আমাদের এমন একজনকে দরকার, যিনি গরু ও ষাঁড় সামলাতে পারেন।’
হ্যামিলটনের নির্বাচনী প্রচারশিবির তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে হ্যামিলটন ট্রাম্পকে কানসাসে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাম্পের সমর্থকদেরও তাঁর নির্বাচনী প্রচারে স্বাগত জানানো হবে।
হ্যামিলটন আরও বলেন, যেসব বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করবেন। তবে ওয়াশিংটনের নীতির কারণে কৃষক ও গ্রামীণ এলাকার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি কানসাসের মানুষের পক্ষে অবস্থান নেবেন।
### মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে, দুই কক্ষেই আসন বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় ডেমোক্র্যাটরা।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কানসাসে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এবার সিনেটর রজার মার্শালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে অবগত এক রিপাবলিকান নেতা জানিয়েছেন, দলের অভ্যন্তরীণ জনমত জরিপে গ্রামীণ এলাকার ৫৫ বছর বা তার কম বয়সী পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
সোমবার প্রকাশিত রয়টার্স ও ইপসোসের এক জনমত জরিপে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সমর্থন ছিল ৩১ শতাংশ, যা তাঁর বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের আসন বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ভালো ফল করতে হবে।
### জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ
কানসাসের সমাবেশে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগও সামনে এসেছে। সমাবেশস্থলের কাছে একটি জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্রের সাইনবোর্ডে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট এবং ডিজেলের দাম ৫ ডলার ৭৮ সেন্ট দেখানো হচ্ছিল।
ভ্রমণবিষয়ক সংস্থা এএএর তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় কানসাসে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ৫৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান ভোটার মনিক মুলেন বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে তাঁর পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাবার দেখাশোনাও করতে হয় তাঁকে।
মুলেন বলেন, ‘আমি প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। আমার হাতে খুব বেশি টাকা নেই। কিন্তু মনে হচ্ছে, জ