‘শিগগিরই মুসলিম নগরীতে পরিণত হবে প্যারিস’, ম্যাক্রোঁকে কড়া আক্রমণ ট্রাম্পের
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ফ্রান্সে অভিবাসীদের প্রবেশ অব্যাহত থাকলে প্যারিস শিগগিরই একটি ‘মুসলিম নগরী’তে পরিণত হতে পারে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেননি। তাঁর দাবি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি আগেই ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু ম্যাক্রোঁ সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্যারিস খুব শিগগিরই একটি মুসলিম নগরীতে পরিণত হতে চলেছে, অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। আপনি পুরো বিশ্ব থেকে মানুষকে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন। সারা পৃথিবীর মানুষ সেখানে চলে আসছে।’
ফ্রান্সের পরিস্থিতির জন্য ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতিকে দায়ী করে ট্রাম্প আরও বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সময়ই তিনি তাঁকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আমি তাকে আট বা নয় বছর ধরে চিনি। প্রথমবার দেখা হওয়ার সময়ই বলেছিলাম, আপনি একটি বিরাট ভুল করছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির সঙ্গে ফ্রান্সের নীতির তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, কিন্তু ম্যাক্রোঁ সেই পথে হাঁটেননি।
ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে বিতর্ক
ফ্রান্সের জাতীয় পরিচয়, অভিবাসন নীতি ও সামাজিক সংহতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ট্রাম্পের এ মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ, সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনায় সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং জনঅসন্তোষ মোকাবিলা করতে তাঁর সরকার রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।
অভিবাসন নীতিই কি সংকটের মূল কারণ?
ফ্রান্সের চলমান সংকটের জন্য অভিবাসন নীতিকে দায়ী করছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে শিথিলতার কারণে দেশটি নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। তবে ফ্রান্সের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে কেবল অভিবাসন নীতিই দায়ী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষ এবং তরুণদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভও সামাজিক অস্থিরতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি এসব অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
ফ্রান্সে অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজন দীর্ঘদিনের। ডানপন্থি রাজনীতিবিদেরা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার দাবি জানালেও, দেশটির চলমান সমস্যার প্রকৃত কারণ ও সমাধান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিবাসনবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।