ইয়েমেনে তীব্র হচ্ছে মানবিক সংকট
ইয়েমেনে ২ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের মধ্যে শুধু তাইজ প্রদেশেই প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ এএম
ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে একাধিক রণাঙ্গনে লড়াই চরম আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে তীব্র খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা তাইজ প্রদেশে, যেখানে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি লাহিজ প্রদেশের আল-মাকাতারিহা অঞ্চলে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের আট জন সেনা নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি তাইজ শহরের উপকণ্ঠে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে। তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর অভিযানে আল-কায়েদার ১২ জন জঙ্গি নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
এদিকে আল-জাওফ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব প্রদেশেও আক্রমণ জোরদার করেছে সরকারি সেনা ও মিত্র ‘পপুলার রেজিস্ট্যান্স’ যোদ্ধারা। সেখানে হুথিদের সামরিক ঘাঁটি, ব্যারাক ও সমাগম লক্ষ্য করে কামান এবং ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। পাল্টা জবাবে হুথিরাও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌদি আরবের একটি রিকনসায়েন্স (নজরদারি) ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হুথিদের দাবি, এটি তুরস্কে তৈরি অত্যাধুনিক ‘কারায়েল’ ড্রোন।
লড়াইয়ের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা বাড়ছে। আল-মুকালা উপকূলে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাংকারে একদল সশস্ত্র জলদস্যু হামলা চালালে জাহাজের নিরাপত্তা কর্মীরা গুলি ছুড়ে তা প্রতিহত করে।
যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে ইয়েমেনের বেসামরিক জনগণের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত শোচনীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে জানিয়েছে, তাইজ শহরটি বর্তমানে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানকার ১২টি হাসপাতালে মাত্র চার দিনের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে। সেখানে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, অক্সিজেন এবং জরুরি ওষুধের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে আবার নতুন করে কলেরা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ইয়েমেনের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পূর্ব আফ্রিকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জন জিবুতিতে এবং ২০০ জন সোমালিয়ায় পৌঁছেছেন। জিবুতির শরণার্থী শিবিরগুলোতেও ইতিমধ্যে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।