বেকারির চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে, যুদ্ধে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার সাগর
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মো. সাগর (২৪) নামে এক তরুণ। শনিবার রাশিয়ায় থাকা সাগরের এক বন্ধু মুঠোফোনে তার বোনকে মৃত্যুর খবর জানান। এ খবরের পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার মো. কবির হোসেনের ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য কিশোর বয়স থেকেই উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে রিকশাভ্যান চালাতেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওই দোকানের এক ম্যানেজারের সহযোগিতায় প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় যান সাগর। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ শুরু করেন। তার মাসিক বেতন ছিল প্রায় ৭০ হাজার টাকা। সেখানে কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় তার।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দালাল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান। সেই প্রলোভনে পড়ে চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে যান সাগর। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সাগরের চাচা আবদুল আওয়াল জানান, রাশিয়ায় বেকারির কাজ ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা সাগর তাকে জানিয়েছিলেন। তবে তিনি সাগরকে এ সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করেছিলেন। তার অভিযোগ, রাশিয়ায় থাকা এক দালাল ভুল তথ্য দিয়ে সাগরকে যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছেন। শনিবার সাগরের এক বন্ধু তার মৃত্যুর খবর দেন।
সাগরের বাবা কবির হোসেন বলেন, তিনি আগে সবজির ব্যবসা করতেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন তিনি। অনেক ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু গত চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। এখন শুনছেন, তার ছেলে আর বেঁচে নেই।
এদিকে, সাগরের মৃত্যুর খবর ও রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক। তিনি বলেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাগর। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।