EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

সাক্ষাৎকারের মাঝেই বরখাস্ত, পাঁচ দিনেই বিদায় ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারির

প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনা, আইনজীবী হিসেবে যোগ্যতা নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন কেটি জাকারিয়া

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ এএম

সাক্ষাৎকারের মাঝেই বরখাস্ত, পাঁচ দিনেই বিদায় ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারির

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) সঙ্গে সাক্ষাৎকার চলাকালে বরখাস্তের খবর পান তিনি। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন ৪২ বছর বয়সী জাকারিয়া। তবে সেই সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ১৪ মিনিটের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন তিনি। প্রশ্নগুলোও এসেছিল ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি সহানুভূতিশীল সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছ থেকে। এ ছাড়া লিখিত বক্তব্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং তাঁর উপস্থাপনার ধরন নিয়েও সমালোচনা হয়।

এর মধ্যেই তাঁর আইন পেশার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ট্রাম্প তাঁকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও জাকারিয়া পরে স্বীকার করেন, তিনি কখনো আইনজীবীদের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি।

সাক্ষাৎকারের মাঝেই বরখাস্তের খবর

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে নিজের দপ্তরে সংবাদমাধ্যমটির সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন জাকারিয়া। এ সময় প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জেসন মিলার তাঁর কক্ষে এসে দরজায় কড়া নাড়েন।

মিলার তাঁকে বলেন, ‘জেডি আমাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে চেয়েছেন।’ এখানে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কথা উল্লেখ করেন।

এর কয়েক মিনিট পর হেলিপ্যাডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, জাকারিয়াকে তিনি দায়িত্ব পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কেটিকে বলেছিলাম, “এটা কি তোমার জন্য উপযুক্ত, কেটি? কারণ, সত্যি বলতে, তোমার এই কাজের প্রয়োজন নেই।”’

তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি তোমার জায়গায় থাকলে বিষয়টি নিয়ে আরেকবার ভাবতাম।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর জাকারিয়া আর সাক্ষাৎকারে ফিরে আসেননি।

বরখাস্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক বক্তব্যে জাকারিয়া বলেন, ‘সীমিত সময় ও তথ্যের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের জন্য আমি আমার সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণের সর্বোত্তম সেবা করাই ছিল আমার লক্ষ্য।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টেও ট্রাম্পের প্রশংসা করেন তিনি। জাকারিয়া লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন দয়ালু, চমৎকার, উদার, চিন্তাশীল, উদ্যমী ও পরিশ্রমী মানুষ। আরও বেশি মার্কিন নাগরিক তাঁর প্রতি যথাযথ উপলব্ধি প্রকাশ করলে ভালো লাগত।’

তিনি আরও লেখেন, ‘তিনি যেভাবে আমেরিকাকে মহান করেছেন এবং করে চলেছেন, অন্য কেউ সেভাবে তা করতে পারবেন না। তাঁর জন্য কাজ করতে পারা ছিল সম্মানের।’

বার পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক

প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই একাধিক কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন জাকারিয়া। ওই সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে দৃশ্যত নার্ভাস দেখা যায়। একপর্যায়ে নিজের স্বামীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে তাঁকে প্রেসিডেন্ট বলে সম্বোধন করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক সাংবাদিক তাঁর কাছে জানতে চান, তিনি কোথায় বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। জবাবে জাকারিয়া বলেন, চীনে বসবাসের সময় তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

তবে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের চাপের মুখে তিনি স্বীকার করেন, বার পরীক্ষায় তিনি পাস করেননি। তাঁর ভাষ্য, চীনে যথাযথ যোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত আইন বিষয়ে কাজ করেছিলেন তিনি।

ফক্স নিউজে রক্ষণশীল উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন জাকারিয়া। হ্যানিটি তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি সরাসরি কেন বলেননি যে আপনি কখনো আইন পেশায় কাজ করেননি?’

ক্যারোলিন লেভিটের বিদায়ের পর অল্প সময়ের মধ্যে প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব গ্রহণের প্রসঙ্গ উঠলে হ্যানিটি আরও জানতে চান, জাকারিয়া কি মনে করেন, হোয়াইট হাউসের কর্মীদের তাঁকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা উচিত ছিল?

নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য

ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে হোয়াইট হাউসের প্রেস টিমে জাকারিয়ার বিদায়কে সবচেয়ে দ্রুত দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১০ দিন দায়িত্ব পালনের পর বিদায় নিয়েছিলেন।

জাকারিয়ার প্রস্থানের ফলে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম-যোগাযোগের পদটি আবার শূন্য হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে এ ঘটনা ঘটল।

জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট ও ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন জনমতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বিভিন্ন জনমত জরিপ। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের গণমাধ্যম-যোগাযোগের দায়িত্বে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন