EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

যন্তর মন্তর কী, যেভাবে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল

যন্তর মন্তরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে তিনটি নতুন বিকল্প স্থান ঠিক করেছে দিল্লি পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

যন্তর মন্তর কী, যেভাবে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল

দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়া মানুষ।

অ অ

দিল্লির ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মানমন্দির যন্তর মন্তর গত তিন দশক ধরে ছিল ভারতের প্রধান রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তার অজুহাতে এখানে সব ধরনের প্রতিবাদ-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় স্থানটি নতুন করে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার জম্ম দিয়েছে।

১৭২৪ সালে জয়পুরের রাজা দ্বিতীয় সোয়াই জয় সিংহ দিল্লির এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। সংস্কৃত ‘যন্ত্র’ ও ‘মন্ত্র’ (গণনা) শব্দ থেকে এর নামকরণ। এখানকার অদ্ভুত আকৃতির বড় বড় পাথুরে কাঠামো মূলত রোদের ছায়া দেখে নির্ভুল সময় ও নক্ষত্রের অবস্থান চেনার জন্য তৈরি হয়েছিল। এটি দিল্লির এমন এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থিত, যেখান থেকে ভারতের সংসদ ভবন খুবই কাছে।

যেভাবে এটি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল

নব্বইয়ের দশকের আগে দিল্লির প্রধান প্রধান রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো হতো ইন্ডিয়া গেটের কাছে ‘বোট ক্লাব’ নামের একটি বড় মাঠে। কিন্তু ১৯৮৮ সালে সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ কৃষক সমবেত হয়ে পুরো দিল্লি অচল করে দেন।

নিরাপত্তার কথা ভেবে ১৯৯৩ সালে বোট ক্লাবে চিরতরে বড় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। তৎকালীন সরকার তখন বিকল্প হিসেবে যন্তর মন্তরের পাশের রাস্তাটিকে বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়। সংসদের কাছাকাছি হওয়ায় খুব দ্রুতই এটি দেশের সব প্রান্তের মানুষের দাবি আদায়ের প্রধান মঞ্চ হয়ে ওঠে।

গত ৩৩ বছরে ভারতের ইতিহাসের বড় বড় সব পরিবর্তনের সাক্ষী এই যন্তর মন্তর রোড। ২০১১ সালে আন্না হাজারের বিখ্যাত দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এখান থেকেই শুরু হয়েছিল, যা পুরো ভারতকে কাঁপিয়ে দেয়।

পরবর্তী সময়ে দেশের শীর্ষ অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগীরদের আন্দোলন, বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের ঐতিহাসিক অবস্থান এবং অতি সম্প্রতি তরুণ ছাত্র সমাজের বিক্ষোভের কেন্দ্র ছিল এই ১.৬ কিলোমিটারের রাস্তাটি।

চলতি বছরের (২০২৬) অক্টোবর মাসে দিল্লি পুলিশ একটি আকস্মিক আদেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের তালিকা থেকে বাদ (ডি-নোটিফাই) দিয়ে একে নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করেছে। এখন থেকে আন্দোলনকারীদের দিল্লির মূল কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে রামলীলা ময়দান বা বুরারি গ্রাউন্ডের মতো ফাঁকা মাঠে গিয়ে প্রতিবাদ করতে বলা হয়েছে।

সরকার বলছে, প্রতিদিনের বিক্ষোভের কারণে সেন্ট্রাল দিল্লির ট্রাফিক জ্যাম এবং শব্দদূষণ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে বিশ্লেষকরা একে দেখছেন ‘গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধ’ হিসেবে। তাদের মতে, ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে গিয়ে প্রতিবাদ করলে তা দেশের নীতিনির্ধারকদের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে না।

যে স্থানটি এক সময় আকাশের তারা গুনত, তা কীভাবে দেশের ভাগ্য নির্ধারণের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল এবং কেন আজ তা স্তব্ধ—তা নিয়ে এখন পুরো ভারতে তুমুল বিতর্ক চলছে।

ইমন/ডেইলি সান

আরও পড়ুন