রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ স্থগিত করলেন ট্রাম্প
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা একগুচ্ছ নতুন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে শুক্রবার রাতে এক নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থেই’ এসব নিষেধাজ্ঞার বড় একটি অংশ স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের সমর্থনে একটি বিল পাস হয়। তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প নিজেই। ওই আইনে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে দেশটির তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে চীন ও ভারতের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোর ব্যবহৃত ‘ছায়া নৌবহরের’ ওপর কড়াকড়ি আরোপের বিধানও ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এসে এসব বিধানের বড় অংশ স্থগিত করলেন ট্রাম্প।
চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার ডিজেল কেনা নিয়ে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কে নতুন করে অবনতি ঘটে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের, বিশেষ করে ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে মার্কিন ভোটারদের ক্ষোভ কমাতে চান ট্রাম্প।
এ লক্ষ্যেই রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিতর্কিত উদ্যোগ নেন তিনি।
ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। তার অভিযোগ, রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনা মানে মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে মার্কিন ডলার জোগানো। একই সময়ে কিয়েভ অভিযোগ করে, ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেইনকে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
এ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতা করা ‘বেশি কঠিন’।
জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সম্মেলনে গিয়ে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘আসল নেতাদের’ সঙ্গে থাকতে পেরে তার স্বস্তি লাগছে।
এর কয়েক দিন পর ট্রাম্প দাবি করেন, তেল রপ্তানি নির্বিঘ্ন রাখতে রাশিয়া ও ইউক্রেইন উভয় পক্ষ একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে।
তবে ইউক্রেইনের দাবি, ট্রাম্পের ঘোষণার পরও রাশিয়া দেশটির তেল অবকাঠামোয় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এর তিন দিন পর কিয়েভও রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে পাল্টা হামলা চালায়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প ইউক্রেইনের এ হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। জবাবে জেলেনস্কি বলেন, তিনি কেবল নিজের দেশের স্বার্থ রক্ষা করছেন।
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের গতি যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কিয়েভের ভাষ্য, ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার সুযোগে কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই ইউক্রেইনে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।
এদিকে কার্যকরের ঠিক আগমুহূর্তে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ স্থগিত করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।
ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ডন বায়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, পুতিনের কাছে ট্রাম্পের এ নতিস্বীকার ইউক্রেইনের অংশীদারদের সঙ্গে নতুন করে বিশ্বাসঘাতকতা। একই সঙ্গে আগ্রাসী রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাস করা আইনেরও স্পষ্ট লঙ্ঘন এটি।