হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, এক দিনের ব্যবধানে ডুবল দুই বাণিজ্যিক জাহাজ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইল হামলার পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ডুবে গেছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ। এর মধ্যে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং অন্যটি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার। বুধবার আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজটি সাগরে ডুবে যায়। ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজটিতে হামলার পর এর ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার জাহাজটিতে হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে সেটি ডুবে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।
অন্যদিকে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার ‘কেপ দাও’ বুধবার হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় ডুবে যায়। হামলার পরপরই জাহাজটির একজন নাবিক নিহত হন। পরে অন্য নাবিকদের উদ্ধার করা হয়।
জাহাজটির সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিওনিস শিপম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজে বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে এ পর্যন্ত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত জলপথে গত কয়েক দিনে হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে মার্চ মাসে মাল্টার পতাকাবাহী ‘সাফিন প্রিস্টিজ’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজ প্রজেক্টাইল হামলায় ডুবে যায়। এপ্রিলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ নামের আরেকটি জাহাজ আটক করে।
এদিকে, গত মাসে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জোরদার ও অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তেহরানও পাল্টা হামলা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এ অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।