EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

প্রতিরক্ষায় বিপুল ব্যয়, তবু হুথিদের হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব

বহুমুখী হুমকি, অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাতের চাপে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রিয়াদ

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

প্রতিরক্ষায় বিপুল ব্যয়, তবু হুথিদের হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বছরে প্রতিরক্ষা খাতে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব। দেশটির বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখনো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে সংগ্রহ করা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে রিয়াদ।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিরক্ষা খাতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে সৌদি আরব। সামরিক খাতে বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যয়কারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে সংগ্রহ করা উন্নত অস্ত্রও রয়েছে সৌদি সামরিক বাহিনীর হাতে।

তবে এত বিপুল সামরিক সক্ষমতা সত্ত্বেও দেশটির সামনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা যেমন কঠিন, তেমনি একাধিক দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পূর্ব দিক থেকে ইরানি বাহিনী সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তরে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠিয়েছে। আর দক্ষিণে ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ভিশন২০৩০ডটএআই-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার অর্থ শুধু রাজধানী রিয়াদ কিংবা কোনো একটি তেল শোধনাগারকে সুরক্ষিত রাখা নয়; বরং বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা স্থাপনার একটি বিশাল নেটওয়ার্ককে নিরাপত্তার আওতায় আনা। সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা, কোন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে তা দ্রুত নির্ধারণ করা এবং নাগরিকদের সতর্কবার্তা পাঠানোর মতো কাজও করতে হয় অল্প সময়ের মধ্যে।

সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝআকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও সব হামলা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশটির একটি সূত্রের ভাষ্য, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে থাকা অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সীমিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কীভাবে বণ্টন করা হবে, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে।

হুথিদের কৌশলে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ

সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার বাড়াচ্ছে হুথিরা। এই কৌশলের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত পদ্ধতির মিল রয়েছে। রাশিয়া যেমন একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোনের পাশাপাশি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়, হুথিরাও তেমনি একাধিক ধরনের অস্ত্র একযোগে ব্যবহার করে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ে আসতে পারে। ফলে রাডারে এগুলো শনাক্ত করা এবং গতিপথ অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া নতুন প্রজন্মের কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছে হুথিরা, যেগুলো উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সব ধরনের আকাশপথের হুমকি শতভাগ প্রতিহত করতে পারে না। তবে হুথিদের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা এক দিনে গড়ে ওঠেনি।

আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আট বছর আগে ইয়েমেনে ইরানের তৈরি বলে শনাক্ত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও ড্রোন পেয়েছিলেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। দুই বছর আগে জাতিসংঘের একটি পর্যবেক্ষক দল জানায়, বিদেশ থেকে হুথিদের কাছে অস্ত্র, প্রযুক্তি ও অর্থ পৌঁছানোর পাশাপাশি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের যে মাত্রা ও পরিধি দেখা গেছে, তা নজিরবিহীন।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, হুথিদের ব্যবহৃত সর্বশেষ হাতেম-২ ও প্যালেস্টাইন-২ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানি অস্ত্রের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। এগুলো দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।

গত বছর হুথিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হানে। ওই ঘটনায় সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক বিশ্লেষক আমির বার শালোম বলেছিলেন, প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূর থেকে উৎক্ষেপণ করে এত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা সত্যিই বিস্ময়কর।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলির দাবি, হুথিরা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কিছু অস্ত্র নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করেছে। তাঁর ভাষ্য, এসব ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার পথে ২৫ মিনিট পর্যন্ত আকাশে চক্কর দিতে পারে এবং তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

ইরানের প্রভাব থাকলেও নিজস্ব এজেন্ডা রয়েছে হুথিদের

ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হুথিরা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী সামরিকভাবে চাপে পড়লেও হুথিরা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তেহরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায়ও প্রতিনিধিদল পাঠায় হুথিরা। তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য রয়েছে।

২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতে ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। অর্থনৈতিক অবরোধ ও অন্যান্য বিধিনিষেধের প্রভাবও দেশটির জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।

এই সংঘাতের ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয় হুথিরা। এরপর লোহিত সাগর উপকূলের আরামকো শোধনাগার এবং সৌদি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর প্রতি সৌদি সমর্থন বন্ধ করার পাশাপাশি রিয়াদের কাছে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে হুথিরা।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত তেহরান।

তবে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতির দাবি, রিয়াদ মধ্যস্থতার প্রস্তাবে সম্মত হলেও হুথিদের দেওয়া দুই সপ্তাহ বা এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এবারের লড়াই আগের সংঘাতগুলোর মতো নয়। যুদ্ধের প্রতিটি দিন সংঘাতের পরিধি বাড়াবে এবং ক্ষয়ক্ষতি আরও গভীর করবে। তাঁর মতে, যে সমঝোতা আজ সম্ভব, আগামীকাল তা কঠিন কিংবা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

কঠিন রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের মুখে রিয়াদ

হুথিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে সৌদি আরব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার আগের সপ্তাহে মোবাইল ফোনে জনসাধারণের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো বন্ধ রেখেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

তবে রিয়াদের একাধিক বাসিন্দা সিএনএনকে জানিয়েছেন, সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা আবার চালু করা হয়েছে। সোমবার তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবিও করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

রিয়াদে বসবাসরত এক প্রবাসী সিএনএনকে জানান, নিরাপত্তার কারণে চলতি সপ্তাহে তাঁর সন্তানদের বাড়িতে রেখে অনলাইনে ক্লাস করানো হচ্ছে। বিমানবন্দরে হামলার সময় স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সোমবার থেকে আবার বার্তা আসতে শুরু করেছে। তবে শনিবারের হামলার বিষয়ে সৌদি সরকারের নীরবতা নিয়ে অসন্তোষ জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও সিএনএনকে কোনো বক্তব্য দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সামনের দিনগুলোতে সৌদি আরবকে কঠিন রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিমানবন্দরে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পর হুথিদের সঙ্গে নমনীয় সমঝোতায় যাওয়া রিয়াদের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর হতে পারে। অন্যদিকে, বিমান হামলা বাড়িয়ে সংঘাত তীব্র করলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিও বাড়বে।

এতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবকে গড়ে তোলার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ঝুঁকি শুধু তেলশিল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির ডেটা সেন্টার, পানি শোধনাগার ও বিমানবন্দর প্রযুক্তি, পানি সরবরাহ এবং পর্যটন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ফলে এসব স্থাপনায় হামলা হলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি মাসের শেষ দিকে রিয়াদে যুবরাজের বহুল আলোচিত বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে এই সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সংঘাতের কারণে চলতি সপ্তাহে রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কংগ্রেস থেকে বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক করপোরেশন দূরে থেকেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থল অভিযানেও সহজে পরাস্ত করা যাবে না হুথিদের

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সহায়তায় স্থল অভিযান চালিয়ে হুথিদের পরাস্ত করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত এবং সুসংগঠিত হুথি যোদ্ধারা দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। গত এক মাসে সরকারি বাহিনীকে তারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

গত বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সাত সপ্তাহের বিমান হামলায় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানের পর লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না চালানোর বিষয়ে সমঝোতা হলেও ইয়েমেনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয় হুথিরা। উল্টো মার্কিন বাহিনীর বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক রিপার ড্রোন ভূপাতিত করে তারা।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় হুথিদের কয়েকজন কমান্ডার নিহত হলেও সংগঠনটির মূল নেতৃত্বকে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে হুথিদের। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) সোমবার জানিয়েছে, ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তায়েজ এখন হুথিদের অবরোধের মুখে।

আন্তর্জাতিক সহায়তার আশায় সৌদি আরব

হুথিদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা জোরদার করেছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক মিত্ররা দেশটির প্রতিরক্ষায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। সৌদির নিরাপত্তায় কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। মিসরও প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত পুনরায় বাড়াতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে রিয়াদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেরই বর্তমানে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অস্ত্রের মজুত কমেছে। এসব অস্ত্র পুনরায় সরবরাহের ক্ষেত্রেও শিল্পোৎপাদনসংক্রান্ত বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষক মাইকেল র্যাটনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনীহা থেকে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে বিপদের সময় তারা নিজেদের মিত্রকে একা ফেলে গেছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার আগেই এক বিশ্লেষণে সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিখেছিলেন, সৌদি আরব আক্রান্ত হওয়ায় রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে দেশটিকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথেই ফিরতে হবে। তাঁর মতে, এই কূটনীতি অসন্তোষজনক ও ত্রুটিপূর্ণ হলেও সাময়িকভাবে সংঘাত থামাতে পারে।

কিন্তু এমন সমঝোতা হলে হুথিরা ইয়েমেনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পেতে পারে। ফলে বিপুল সামরিক ব্যয়, অত্যাধুনিক অস্ত্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কীভাবে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি কমানো যায়।

আরও পড়ুন