ইসরায়েলের নির্দেশে ৩১ দেশের ক্রুদের বাদ দিচ্ছে এয়ার ফ্রান্স
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ এএম
ছবি: এএফপি
মুসলিমপ্রধানসহ ৩১ দেশের নাগরিক পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশের নাগরিকদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। ইসরায়েলের এ নির্দেশনা মেনে চলতে সম্মত হয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশসহ কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশ রয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছে আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান ও পাকিস্তান। এসব দেশের নাগরিকত্বের পাশাপাশি ফরাসি নাগরিকত্ব থাকা পাইলট ও কেবিন ক্রুরাও এ বিধিনিষেধের আওতায় পড়বেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের নির্দেশনায় সরাসরি কোনো ধর্মের কথা উল্লেখ করা হয়নি। বরং নাগরিকত্বের ভিত্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এর ফলে তালিকাভুক্ত মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর নাগরিক পাইলট ও কেবিন ক্রুরা ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারাচ্ছেন।
মিডিয়াপার্ট জানিয়েছে, এয়ার ফ্রান্স সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েলের শর্ত অনুযায়ী তাঁরা আর দেশটিগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে কর্মীদের দ্বিতীয় কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকলে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে বিমান সংস্থাটি। এ তথ্য গোপন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের কারণে ফ্রান্সে বৈষম্যের অভিযোগে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এয়ার ফ্রান্স। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি বিমান সংস্থাটি।
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশকারী ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকা চলবে না, যে দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রেও এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের এক ওমানি সহকারী পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে সেটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পরই ইসরায়েল নতুন নির্দেশনা জারি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সহকারী পাইলট পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীদের জানান, তিনি একাই এ কাজ করেছেন। তবে কথিত ওই ঘটনার পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সহকারী পাইলটের পরিচয় ও ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি

-6ac85792b498d.jpg)