জ্ঞানেশের বিদায় ও পতন হবে মোদি সরকারের: রাহুল গান্ধী
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
রাহুল গান্ধী/ ছবি সংগৃহীত
ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন হবে। এরপরই ভারতে ‘গণতন্ত্র মেরামতের’ কাজ শুরু হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী এ মন্তব্য করেন।
তিনি লেখেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে বিদায় নিতে হবে। এ সরকারকেও বিদায় নিতে হবে। এর পরই গণতন্ত্র মেরামতের কাজ শুরু হবে।’
পোস্টের সঙ্গে সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া তার একটি বক্তব্যের ভিডিও যুক্ত করেন রাহুল গান্ধী।
এর আগে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি বলেন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের চেয়েও বড় একটি ‘গভীর সমস্যা’ রয়েছে। এর সমাধানের জন্য বর্তমান সরকারের পতন বা ক্ষমতাচ্যুত হওয়া প্রয়োজন।
রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধী দলগুলো গত তিন-চার দিনের মতো চাপ অব্যাহত রাখলে সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি গত তিন-চার দিনে যেভাবে চাপ সৃষ্টি করেছি, তা বজায় রাখি, তবে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, এই সরকার পড়ে যাবে।’
‘বিরোধীদের প্রতিবাদ সরকারের ভিত্তি কাঁপিয়ে দিয়েছে। সরকার এখন ভীতসন্ত্রস্ত। এটি এমন একটি বিষয়, যার জন্য লড়াই করা যায়, এমনকি জীবনও দেওয়া যায়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সব ট্রেন বন্ধ, ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, গণগ্রেপ্তার, লকডাউনে পরিণত হয়েছে দিল্লি, মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ। মোদি-শাহ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজস্ব জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। একজন একনায়কের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন ও সত্যাগ্রহকে অত্যন্ত নির্মম ও দমনমূলক কায়দায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক চলছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও আদেশ নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ভিন্নমত ও পর্যবেক্ষণ স্বাভাবিক আলোচনার অংশ। কমিশনের সব আদেশের পূর্ণ আইনি বৈধতা রয়েছে। সেগুলো প্রতিষ্ঠিত সংবিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে।