দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয়প্রার্থীদের বিক্ষোভে সংঘর্ষ, লুটপাট, আগুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে অন্তত ২৪টি যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ আফ্রিকায় বহিরাগত আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিক্ষোভ চরম সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশটির প্রধান দুটি শহর ডারবান ও জোহানেসবার্গের সোয়েটু এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সাথে অভিবাসীদের সংঘর্ষ, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে অন্তত ২৪টি যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে স্টান গ্রেনেড ব্যবহার ও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডারবানের চে গুয়েভারা সড়কের ‘রিফিউজি রিসেপশন সেন্টার’ ঘেরাও করে স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করলে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে এই উত্তেজনা শহরের কেন্দ্রস্থলে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে ১৪টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের বেশ কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এক বিক্ষোভকারীকে মারধরের অভিযোগে তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, জোহানেসবার্গের সোয়েটুর অরল্যান্ডো ওয়েস্টে স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অ্যাফেয়ার্স) বন্ধের দাবিতে স্থানীয়দের মিছিলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে রণক্ষেত্র তৈরি হয়। সেখানে ১০টি গাড়ি আগুনে পোড়ানোসহ বেশ কিছু দোকানে লুটপাট চালানো হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলেও এর উৎস নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া পোর্ট এলিজাবেথের গকেবেরহা এলাকায় আশ্রয়প্রার্থীদের বাধা দিতে আসা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড ও অতিরিক্ত পুলিশ ব্যবহার করা হয়।
বিক্ষোভের সূত্রপাত গত জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত এক ঐতিহাসিক রায় থেকে। এ রায়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু আইনি বাধা তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকার আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি বৈধ ট্রানজিট ভিসা না থাকা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট করতে না পারার কারণে কোনো আশ্রয়প্রার্থীকে সরাসরি আবেদন থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
এই রায়ের পর স্বরাষ্ট্র দপ্তর পুনরায় আবেদন গ্রহণ শুরু করলে কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার স্পষ্ট করেছে যে, আশ্রয়ের আবেদন করার মানে সরাসরি শরণার্থী মর্যাদা বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া নয়। বরং প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।
সরকারি মুখপাত্র উইলিয়াম বালয়ি জানিয়েছেন, আদালতের এই রায়টি নিয়ে সমাজে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা উসকে উঠেছে।
সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটির ভারপ্রাপ্ত জাতীয় কমিশনার পুলেং দিমপানে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে, কিন্তু অপরাধ করার বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী এই ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। স্থানীয়দের মধ্যে বিদ্যমান বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সংকট এবং নাগরিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের জন্য প্রায়ই অভিবাসীদের দায়ী করা হয়।
তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক বিজ্ঞানীদের মতে, অপরাধ বৃদ্ধি বা চাকরি সংকটের জন্য অভিবাসীরাই এককভাবে দায়ী- এমন দাবির পক্ষে বস্তুনিষ্ঠ কোনো প্রমাণ নেই।