রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ নিহত ২৮
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় পাঁচ শিশু প্রাণ হারায়।
শক্তিশালী বিস্ফোরণে ভবনটির জানালার কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। পাঁচতলা ভবনটির প্রায় অর্ধেক অংশ পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের পৃথক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। জেলেনস্কি জানান, আহতদের মধ্যে সাত শিশুও রয়েছে।
রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক শহর ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেন, দেশটির জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
ইউক্রেনের ৪০ বছর বয়সি নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ওলেনা সায়ুন এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণে আমাদের জানালার কাচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, আমরা নিজেদের শরীর দিয়ে আমাদের শিশুকে আগলে রেখেছিলাম। আমার স্বামীর পিঠে এবং আমার শরীরেও কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, হামলার সময় তাদের সন্তান প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়ে ভয় পেয়ে যায়। তারা দ্রুত বাথরুমে আশ্রয় নেন। তখন অ্যাপার্টমেন্টের সবকিছু তছনছ হয়ে যাচ্ছিল।
প্রিলুকির স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শহরটিতে রুশ হামলা শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার সম্ভাব্য একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।
শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে হামলার মাত্রা বেড়েছে। প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেতও বেজে চলেছে। উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি। পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকা পড়েছিলাম। সবাই—আমাদের গ্রুপের চ্যাট কিংবা বসরা—আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন।’
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা ছিল ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’। এ কারণে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনলাইন মার্কেটিংয়ে কর্মরত ৩১ বছর বয়সি ইউলিয়া শামরাই, যিনি প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কাছেই থাকেন, বলেন, ‘এই হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার কোন সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না।’
সূত্র: এএফপি