EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

তাইওয়ানে অস্ত্র দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা উত্তর কোরিয়ার

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

তাইওয়ানে অস্ত্র দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা উত্তর কোরিয়ার
অ অ

তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক সহায়তা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ করেছে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।

বুধবার (৭ অক্টোরর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব বক্তব্য তুলে ধরা হয়। নিবন্ধে উত্তর কোরিয়ার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশ্লেষক কিম মিয়ং চল তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেন।

কিম মিয়ং চল বলেন, তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ওই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। তাইওয়ানে মার্কিন যুদ্ধবিমান সরবরাহেরও নিন্দা জানান তিনি।

তিনি বলেন, তাইওয়ানের নিরাপত্তার জন্য চীনের শক্তিশালী জাতীয় শক্তির মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের আছে কি না এবং এর পরিণতি সামলানোর সক্ষমতা দেশটির রয়েছে কি না, তা ওয়াশিংটনকে ভেবে দেখা উচিত।

বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি বিমান গ্রহণ করেছে তাইওয়ান। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এ ধরনের ৬৬টি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছিল তাইপে।

চীনের অবস্থানের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সুর

তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অবস্থান চীনের অবস্থানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যাচ্ছে। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। অন্যদিকে তাইওয়ান বেইজিংয়ের এই সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

গত কয়েক বছরে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে উত্তর কোরিয়া। এতে যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়া ও পশ্চিমা অঞ্চলে ওয়াশিংটনের মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।

গত জুনে পিয়ংইয়ংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বৈঠকে তিনি ‘এক চীন’ নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। বেইজিংয়ের অবস্থান অনুযায়ী, তাইওয়ান প্রণালির দুই পাশ একই দেশের অংশ।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বৈঠকে শি জিনপিং দুই দেশের মধ্যে কূটনীতি, আইন প্রয়োগ, সামরিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও বিনিময় বাড়ানোর কথা বলেছেন।

রাশিয়ার প্রতিও সমর্থন অব্যাহত

তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে উত্তর কোরিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দেওয়া জন্মদিনের বার্তায় কিম জং উন মস্কো ও দেশটির যুদ্ধ প্রচেষ্টায় পিয়ংইয়ংয়ের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কিম বলেন, দুই দেশের ‘সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারত্বের’ আওতায় পিয়ংইয়ং যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা স্বার্থ ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার ‘ন্যায্য যুদ্ধ’ বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বার্তায় ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে।

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক

২০২৪ সালের জুনে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত যুদ্ধের সময় সরাসরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিয়ংইয়ংয়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।

চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও বেইজিংয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের সরাসরি সামরিক প্রতিশ্রুতি এখনো দেখা যায়নি।

তাইওয়ানকে ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের প্রতি নিয়মিত আহ্বান জানিয়ে আসছে বেইজিং ও পিয়ংইয়ং। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও পড়ুন