EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়বে জি-৭

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ এএম

ট্রাম্পের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়বে জি-৭
অ অ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ মোকাবিলায় আগামী চার মাসে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি-৭। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জি-৭-এর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী ২০ দিনের মধ্যেই জোটের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়বে। পুরো কর্মসূচিতে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেলও থাকবে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের মজুত থেকে জ্বালানি বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করতে পারে। তবে পরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি ‘আসলে কখনোই টেবিলে ছিল না’।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, জি-৭ নেতারা চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি মজুত থেকে বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তাঁর মতে, সমন্বিত এই পদক্ষেপের ফলে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের, বিশেষ করে ডিজেলের দাম কমতে পারে।

জি-৭ দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জোটের বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করে।

জোটের যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে জ্বালানি ও জ্বালানি-জাতীয় পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে রিফাইনারিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচি সমন্বয় করা হবে, যাতে একসঙ্গে একাধিক পরিশোধনাগার বন্ধ না থাকে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, এসব পদক্ষেপ জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করতে এবং পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করবে।

জ্বালানির বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি রিফাইনারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দেশটির ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে।

ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও কৃষি খাতে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। কারণ পণ্য পরিবহন, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার আগে যে দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলারের কাছাকাছি ছিল, তা পরবর্তী সময়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডিজেল সরবরাহকারী দেশ হওয়ায় দেশটির রপ্তানি নীতির পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। জি-৭-এর সমন্বিত মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো সংকটের সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন