EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের চাপে এবার কাকে শান্তিতে নোবেল দেবে কমিটি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

ট্রাম্পের চাপে এবার কাকে শান্তিতে নোবেল দেবে কমিটি?

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

অ অ

গত বছর জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, তিনি সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছেন এবং এ কারণে তাঁকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত। তবে শেষ পর্যন্ত জোর প্রচারণা চালিয়েও আরাধ্য নোবেলের দেখা পাননি এই বিশ্বনেতা।

২০২৬ সালে এসে সেই ট্রাম্পের বাস্তবতা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। ‘অশান্তির’ পথে হেঁটে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছেন তিনি। এই যুদ্ধংদেহী ভূমিকার কারণে এবার ট্রাম্পের শান্তিতে নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।

আগামী ৯ অক্টোবর ওসলো থেকে ঘোষণা করা হবে এবারের শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম। তবে পুরস্কার ঘোষণার আগেই নোবেল কমিটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাশ।

ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘটনাটি ছিল এই পুরস্কারের ১২৫ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত। পুরস্কার না পেয়ে সে সময় নোবেল কমিটির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছিলেন ট্রাম্প; এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিলেন ট্রাম্পের পক্ষে।

সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটে পুরস্কার ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ পর, যখন মাচাদো ‘গণতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলা প্রতিষ্ঠায়’ ট্রাম্পের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে নিজের আসল নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে দিয়ে দেন।

ওসলোভিত্তিক পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলোভের মতে, গত বছরের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা এবার পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটিকে বিশেষ সতর্ক হতে বাধ্য করবে। এবার তারা এমন কাউকে বেছে নিতে পারে, যারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাব সামাল দিতে সক্ষম।

বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পারস্পরিক সহাবস্থানের যে বহুপাক্ষিক রীতিনীতি গড়ে তুলেছে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এবং ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নীতি তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মিত্র দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ, ন্যাটো ছাড়ার হুমকি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার এই একলা চলো নীতি নোবেল কমিটির মূল চেতনার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

ইতিহাসবিদ ওইভিন্দ স্টেনেরসেন রয়টার্সকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির এই চরম সংকটময় সময়ে নোবেল কমিটির এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার, যা উদার গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলবে।’

 এই দৃষ্টিকোণ থেকে এবার ওয়াশিংটনের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কিংবা রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজে)-কে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হতে পারে।

আলোচনায় আছেন যাঁরা

চলতি বছর ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ হলেও কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা এবারও ট্রাম্পকে মনোনীত করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে এবার সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় এগিয়ে আছেন:

পোপ লিও: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে মানবিক নির্দেশনা, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় তাঁর অবস্থান নোবেল কমিটির বিবেচনায় শীর্ষে রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সমালোচনা করায় ট্রাম্প তাঁকে ‘দুর্বল’ বললেও, শান্তিবাদীদের কাছে তিনি অনন্য।

ফ্রান্সেসকা আলবানিজ: গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও পশ্চিম তীর অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এই ইতালির নাগরিককে নিয়েও আলোচনা রয়েছে, যদিও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র তোপের মুখে আছেন।

যদি নোবেল কমিটি বড় কোনো ভূ-রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে না চায়, তবে তারা একেবারে বিপরীত মেরুর কোনো মানবিক সংগঠনকে বেছে নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সুদানের গৃহযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস (ইআরআর)’ কিংবা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শিশুদের জীবন রক্ষায় নিয়োজিত বিশ্বখ্যাত সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ পেতে পারে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার।

গায়ের জোরে বা ক্ষমতার দাপটে যে নোবেল জয় করা যায় না, তা মনে করিয়ে দিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী ফিলিপিনো-আমেরিকান সাংবাদিক মারিয়া রেসা রয়টার্সকে বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলেই কোনো কিছু ন্যায্য হয়ে যায় না। জীবনযাপনের কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে যা আমাদের মানতেই হবে।’

এখন দেখার বিষয়, আগামী ৯ অক্টোবর নোবেল কমিটি ট্রাম্পের ছায়া এড়িয়ে কোন মানবিক শক্তিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করে।

ইমন/ডেইলি সান

আরও পড়ুন