প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, দিল্লিতে আটক ৭০০-এর বেশি
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ৭০০-এর বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্য রয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠন।
বিক্ষোভের জন্য দিল্লি পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়নি। অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, পিকেটিং ও ধর্না নিষিদ্ধ করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ মাইকিং করে মানুষকে ওই এলাকায় না যাওয়ার আহ্বান জানায়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এএপি নেতা এবং এআইএসএ, এসএফআই, এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্য রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৭০০ এসএফআই সদস্যকে অশোকা রোডের একটি গোলচত্বরে আটকে দেওয়া হয়। পরে তাদের অনেককে আটক করা হয়। এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও অতিশীও আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন। রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংকে বিক্ষোভস্থলের দিকে যেতে বাধা দেওয়া হয়।
বিক্ষোভের কারণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তার কারণে মধ্য দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশনেও যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এসআইআরকে ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচালনা করছে।
জ্ঞানেশ কুমার ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের ২৬তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।