যুদ্ধ, জ্বালানি ও সুপার এল নিনো—বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা জয়শঙ্করের
চলমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো এ সংকটে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি ও সারের সরবরাহে চাপ এবং শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনোর’ প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
তিনি বলেন, চলমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো এ সংকটে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক দক্ষিণের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সময়ে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থ—সব খাতেই চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের সঙ্গে খাদ্য ও সারের সংকট যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সংঘাতের সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বাজারে অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলো আর্থিক চাপেও পড়ে।
জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের কয়েকটি প্রধান খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ বর্তমানে নিজেদের পণ্য বাইরে পাঠাতে সমস্যায় পড়ছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে শস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম ও অন্যান্য শস্য সরবরাহকারী অঞ্চল থেকে খাদ্যশস্যের জোগান কমে যেতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর অঞ্চলটির শস্য রপ্তানি বারবার ব্যাহত হয়েছে।
সারের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। চলমান সংঘাতের কারণে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতার সঙ্গে সম্পর্কিত এই জলবায়ু পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। জয়শঙ্করের মতে, ‘সুপার এল নিনোর’ প্রভাবের সঙ্গে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, এর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণেও এবারের এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দেশের সিদ্ধান্ত শুধু সেই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থায়ও পড়ে। তাই নীতিনির্ধারকদের নিজেদের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব অন্য দেশগুলোর ওপর কী হতে পারে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে এই সংকট কাটিয়ে উঠবে, সে প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, কিছু দেশের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই কৌশলগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত দেশগুলো চায়, আরও বেশি দেশ যেন নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে।
