'প্রায় অঙ্গ বিচ্ছিন্ন' পাইলটকে প্রাথমিক চিকিৎসা করেন এক দন্ত চিকিৎসক
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
ছবি: দন্ত চিকিৎসক শোতা মুসায়েভ ও ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। সংগৃহীত
সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে মাথা ও হাতে গুরুতর জখম নিয়ে রক্তে ভেসে যাচ্ছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের ৩৯ বছর বয়সী ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। তবে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি জ্ঞান হারাননি এবং ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। ওই ফ্লাইটে থাকা একমাত্র চিকিৎসক শোতা মুসায়েভ, যিনি পেশায় একজন দন্তচিকিৎসক পাইলটের প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। তাঁর ভাষ্যে, মাচ্ছারের মাথা ও হাতের ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে অঙ্গগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো দেখাচ্ছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভ জানিয়েছে, পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দিলে কয়েকজন যাত্রী মিলে দ্রুত সেদিকে ছুটে যান। সবাই মিলে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটকে রাখার পর ইসরায়েলি দন্তচিকিৎসক শোতা দ্রুত রক্তাক্ত পাইলটের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। তিনি মাচ্ছারের রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মাচ্ছারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তিনি পুরো সময় সচেতন ছিলেন এবং কথা বলছিলেন। বিমানের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় তিনি চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন। প্রার্থনা করছিলেন। বলছিলেন পরিবারে তাঁর দুটি সন্তানের কথা।
বিমানটি ল্যান্ড করার ঠিক আগ মুহূর্তে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হতে শুরু করে। ঘটনার পর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত মাচ্ছারকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভারতীয় দুতাবাস জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত আছেন। তারা ও রিয়াদে অবস্থিত জেদ্দার কনস্যুলেট পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের পরিবারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
পাইলট স্মিত মাচ্ছারের দ্রুত সুস্থতার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে ভারতীয় দুতাবাস।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইট অপ্রত্যাশিতভাবে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয়। কারণ বলা হয়, দুই পাইলটের একজন অন্যজনকে ছুরিকাঘাত করেন এবং "স্পষ্টতই বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন"। এমনটাই বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি বুধবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর জরুরি সংকেত পাঠায় এটি।
ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ ইসরায়েলের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে যাওয়ার নির্ধারিত পথ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। এর পরিবর্তে সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।