ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী-আঞ্চলিক যোদ্ধাদের তীব্র সংঘর্ষ, নিহত ৫২
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলের আলামাতা শহর এবং আশপাশে সরকারি বাহিনী ও আঞ্চলিক যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫২ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তিন দিনের লড়াইয়ে ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।
সংঘর্ষের পর সরকারি বাহিনী আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরটির রাস্তায় ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান দেখা গেছে। আলামাতা থেকে টাইগ্রের প্রধান শহর মেকেলের দিকে সরকারি বাহিনী অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
আলামাতা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বিবিসিকে জানান, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত শহর ও আশপাশে ব্যাপক লড়াই হয়েছে। এতে ভারী বিস্ফোরক ও কামান ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি হামলায় আবাসিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন দিন বয়সী একটি শিশুসহ নারী ও গবাদিপশু চরানো মানুষও রয়েছেন।
ওই চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, আলামাতার একটি বাজারে হামলায় একসঙ্গে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টাইগ্রের তাদের সহায়তা পাওয়া হাসপাতালগুলোতে ৭০০ জনের বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছেন।
টাইগ্রে নিয়ন্ত্রণকারী টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) ও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। গত সপ্তাহে তা নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানে হওয়া শান্তিচুক্তি ভঙ্গের জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।
সংঘর্ষ কে শুরু করেছে, তা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। টিপিএলএফের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের হামলা ও ড্রোন হামলার জবাবে তারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। অন্যদিকে ইথিওপিয়া সরকার বলছে, টিপিএলএফের যোদ্ধারাই প্রথম হামলা চালায় এবং কয়েকটি বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সংঘর্ষ শুরু হয়।
আলামাতা টাইগ্রের রাজধানী মেকেলের প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইকে সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে।
সংঘর্ষের প্রভাব পাশের আমহারা ও আফার অঞ্চলেও পড়েছে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান লালিবেলায় ৩৩ জন পর্যটক এক সপ্তাহ ধরে আটকা রয়েছেন। বিমানবন্দর বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ পর্যটক শহরটি ছাড়তে পারেননি। তবে সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে টাইগ্রেতে ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবিসিও জানিয়েছে, তারা টাইগ্রে ও আশপাশের এলাকায় সরাসরি সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছে না।
ইথিওপিয়া সরকার প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার অভিযোগ করেছে। তবে ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নতুন করে সংঘাত বাড়ায় ইরিত্রিয়াও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

-6abb2ccfdc373.jpg)
-6abd61ab1d17e.jpg)