অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ইইউর পাঁচ দফা নতুন পরিকল্পনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
বড় আকারের অনিয়মিত অভিবাসনের চাপ মোকাবিলা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিঃসীমান্ত আরও নিরাপদ করতে পাঁচ দফা নতুন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় কমিশন। এতে সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার, সীমান্ত নজরদারি উন্নত, মানবপাচার ও অভিবাসন চোরাচালান দমন এবং ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশন জানায়, ইইউর পূর্ব সীমান্ত থেকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন মোকাবিলায় দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।
বিশেষ করে স্পেনের সেউটা সীমান্তে সাম্প্রতিক সংকট অল্প সময়ে বড় আকারের অভিবাসন প্রবাহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে, তা দেখিয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে কমিশন।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইইউর বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সীমান্ত সুরক্ষা, অংশীদারত্ব এবং ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থায় আরও উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
নতুন পরিকল্পনার প্রথম দফায় অভিবাসনের উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অভিবাসনের মূল কারণ মোকাবিলা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং তথ্য বিনিময়ের পাশাপাশি বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় ইইউর বহিঃসীমান্ত শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফ্রন্টেক্সের দায়িত্ব ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েনের জন্য স্থায়ী বাহিনী শক্তিশালী করা, সীমান্ত নজরদারি উন্নত করা এবং চাপের মুখে থাকা সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তৃতীয় দফায় সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং নতুন অভিবাসন পথ শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অনিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করে এমন অনলাইন কার্যক্রম শনাক্তে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চতুর্থ দফায় মানবপাচার ও অভিবাসন চোরাচালানকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় পুলিশ সংস্থা ইউরোপোলের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।
পঞ্চম দফায় ইইউতে থাকার বৈধ অধিকার নেই—এমন ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, ফেরত কার্যক্রমে ফ্রন্টেক্সের ভূমিকা বৃদ্ধি এবং পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, পাঁচ দফা পরিকল্পনাটি আগামী ১ ও ২ অক্টোবর ২০২৬ ইইউর বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে।
অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সীমান্ত সুরক্ষা, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা এবং ফেরত পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা—এই তিনটি বিষয়কে পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।