‘বেদনাদায়ক আঘাতের’ মুখে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আরব সাগর থেকে শিগগিরই মার্কিন বাহিনী মুক্ত হবে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বার্তায় জানালেন মোজতবা খামেনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
‘বেদনাদায়ক আঘাতের’ মুখে পড়ে মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য বার্তা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর প্রচেষ্টার মধ্যেই ইরানের শীর্ষ নেতার কাছ থেকে এমন কঠোর হুঁশিয়ারি এল।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি দাবি করেন, ‘আজ সাহসী যোদ্ধা ও হরমুজ প্রণালির প্রহরীদের হাতে বেদনাদায়ক আঘাত পাওয়ার পর শত্রুরা (মার্কিন বাহিনী) এখন আরব সাগরের বাইরে যাওয়ার সাহস করছে না। যখনই তারা এই ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তখনই নিজেদের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে।’ খুব শিগগিরই পুরো আরব সাগর মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরব উপদ্বীপ থেকে পূর্বে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত আরব সাগর বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগত সমুদ্রপথ, যা সরাসরি ইরানের উপকূল ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ জারি করে।