ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচের পদত্যাগ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ২৫ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ভুচিচ।
বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের পর পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন ভুচিচ। সার্বিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন।
ভুচিচ ২০১৭ সালে প্রথমবার সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেন। সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকায় তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এসেছে। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তবে তার পদত্যাগের পেছনে দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতাও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভিযোগ তুলে ছাত্রদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে আন্দোলনে শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হন।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের জবাবদিহি এবং আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।
এদিকে, ভুচিচের পদত্যাগের পর সার্বিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বছরের শেষ নাগাদ আয়োজন করতে হবে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে যাওয়ার লক্ষ্যে দলের নেতৃত্বে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও সার্বিয়ার রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সার্বিয়ার রাজনীতিতে ভুচিচ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করেছেন তিনি।
-6ab3961bec4fa.jpg)