EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেও ওয়াশিংটনে কাঙ্ক্ষিত সব পাননি শি জিন পিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০ পিএম

ট্রাম্পের রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেও ওয়াশিংটনে কাঙ্ক্ষিত সব পাননি শি জিন পিং

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে জমকালো লাল গালিচা সংবর্ধনা পেলেও নিজের সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ট্রাম্প ও শির মধ্যকার এই শীর্ষ সম্মেলনের নেপথ্যে বেইজিংয়ের একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল। পরাশক্তি হিসেবে চীনের উত্থান ঠেকাতে মার্কিন প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনকে দূরে রাখা। তবে সবশেষে বেইজিংয়ের ঝুলিতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।

স্বল্পমেয়াদী বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি ও ঝুলে থাকা বিরোধ

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্ক যুদ্ধ স্থগিত রাখার যে চুক্তি হয়েছিল, তার মেয়াদ মাত্র কয়েক মাসের জন্য বাড়িয়ে নভেম্বর থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। ট্রাম্পের অবশিষ্ট ক্ষমতাকাল শান্তিতে পার করার উদ্দেশ্যে বেইজিং অন্তত এক বছরের যুদ্ধবিরতি আশা করেছিল।

এর ফলে শুল্ক বিরোধ, বিরল খনিজ উপাদানে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং উন্নত মার্কিন চিপের বাজারে চীনের প্রবেশাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আবারও পরবর্তী আলোচনার টেবিলে ঝুলে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী কোনো সুবিধা দেওয়ার আগে চীনকে চুক্তির শর্ত পূরণে আরও চাপ দিতেই ওয়াশিংটন এই কৌশল নিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটে বেইজিং

এমন এক সময়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো যখন চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে। বিশ্বজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য বিক্রি করলেও চীনের নিজস্ব ভোক্তারা কেনাকাটায় হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষের নিজস্ব বাড়ি থাকা সত্ত্বেও আবাসন খাতে ধস নেমেছে এবং তরুণদের বেকারত্বের হার অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এখন বৈদেশিক বাজারের ওপর বেইজিংকে চরমভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে। ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিধ্বংসী শুল্ক থেকে নিজের রপ্তানি খাতকে রক্ষা করা শির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তাইওয়ান ইস্যুতে 'রেড লাইন' ও ট্রাম্পের দরকষাকষি

তাইওয়ান ইস্যুতে শি জিনপিং আবারও স্পষ্ট করেছেন যে, স্বশাসিত এই দ্বীপটিতে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি চীনের জন্য একটি 'রেড লাইন' বা চরম সীমা। তবে আইনগতভাবে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার অস্ত্র দিতে বাধ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে গত মে মাসে শি সতর্ক করেছিলেন যে, এই ইস্যুতে ভুল সিদ্ধান্ত দুই দেশকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এরপর ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন স্থগিত রেখে একে বেইজিংয়ের সাথে আলোচনার 'ভালো ঘুঁটি' হিসেবে ব্যবহার করেন।

শীর্ষ সম্মেলনে শি যুক্তি দিয়েছেন যে, তাইওয়ানকে সমর্থন কমালে সংঘাতের ঝুঁকি কমবে। বৃহস্পতিবারও তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। তবে দ্বিপাক্ষিক চাপের মুখে থাকা ট্রাম্প এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানাননি।

এআই ও পান্ডা কূটনীতি

শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা করলেও কোনো সাধারণ সুরক্ষা নীতিতে পৌঁছাতে পারেননি। অ্যানথ্রোপিক-এর প্রধান নির্বাহীসহ শীর্ষ গবেষকদের পক্ষ থেকে এআই মানবজাতিকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন সতর্কবার্তার আগেই ছিল। ফলে এই বিষয়ে একটি যৌথ সিদ্ধান্তের দিকে নজর ছিল সবার।

বৈঠকে শি এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিলেও, ট্রাম্প এই প্রযুক্তিগত বিলুপ্তির ভয়কে 'ধোঁকাবাজি' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে চীনের ঐতিহ্যবাহী 'পান্ডা কূটনীতি'র অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আটলান্টায় দুটি পান্ডা (পিং পিং ও ফু শুয়াং) পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন শি জিনপিং।

সবচেয়ে বড় জয় 'দৃশ্যমান সমতায়' নীতিগত বড় কোনো চুক্তি হয়নি। এই সফরের বাহ্যিক আবহ বা 'অপটিক্স' বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় জয় নিয়ে এসেছে।

বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক সৌজন্য দেখিয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা এবং রাজকীয় নৈশভোজের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শি জিনপিংকে ট্রাম্পের সমান মর্যাদার নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে।

চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই নেতার বৈপরীত্য নিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন মিম ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে ট্রাম্পকে অস্থির এবং শি জিনপিংকে শান্ত-ধীরস্থির হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ট্রাম্প এই বৈঠককে 'দারুণ বন্ধুত্ব' বলে আখ্যা দিলেও, চীনা নেতার মূল লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে চীনের পরাশক্তি অবস্থান নিশ্চিত করা।

সবকিছুর পরেও পর্দার আড়ালে বিশ্বের শীর্ষ দুই পরাশক্তির মধ্যকার তীব্র প্রতিযোগিতা আগের মতোই বহাল রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন