যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ছে। এর আগে এ বিরতির মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের দিনই বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সাথে বৈঠকের পর বেসেন্ট বলেন, "কেবল ছোটখাটো কিছু বিষয়ে ধারাবাহিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে আমরা বড় কোনো চুক্তি করতে পারি কি না, তা দেখতেই বৈঠকে বসেছিলাম। আমরা সম্মত হয়েছি যে, আমাদের তথাকথিত বুসান চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করবো।"
এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে যোগ করেন তিনি।
বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আরও বড় একটি অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে কাজ করতে চাইছে। একই সঙ্গে দুই দেশ এআই নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে চীনের শেনঝেনে এআই নিরাপত্তা ও জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের আবার বৈঠকের কথা রয়েছে।
রয়টার্সের খবরে আরো বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর দিনই এই বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
বুধবার চীনা প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনে পৌঁছালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নজিরবিহীন কূটনৈতিক সৌজন্য দেখিয়ে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে নিজে তাঁকে স্বাগত জানান। ১১ বছর পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেখানে কোনো বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানালেন।
বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোকে এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বড় ধরনের কোনো চুক্তি বা অগ্রগতির প্রত্যাশা কম। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যসহ প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে ।
চীনা দূতাবাস প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে সি জিনপিং বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।’ তবে ওই বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সি জিনপিংয়ের সফরে বড় ধরনের সমঝোতার পরিবর্তে বাণিজ্যবিরতি বাড়ানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় আলোচনার মতো সীমিত ফলাফল আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্যের পাশাপাশি তাইওয়ান, ইরান ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
চলতি বছর ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের মধ্যে আরও একটি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা এপেক সম্মেলন কিংবা ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ বৈঠকের সময় তাদের আবার সাক্ষাৎ হতে পারে।