জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান শাহবাজের
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত পেট্রোলিয়াম কর, ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ইসলামাবাদমুখী ট্রেন লংমার্চ ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আন্দোলনরত দলটিকে লংমার্চ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে এ অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশে ফিরে পেট্রোলিয়াম কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ ও কার্যকর সংলাপে বসার প্রস্তাব দেন তিনি।
দলটির এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে দ্য নিউজ পাকিস্তান জানিয়েছে, লংমার্চের অংশ হিসেবে হাফিজ নাঈমুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কাফেলা মুলতান রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর নিউইয়র্ক থেকে তাকে ফোন করেন শাহবাজ শরিফ।
ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান জামায়াত আমির। তবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত সৃষ্টি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁরা গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করছেন বলেও জানান তিনি।
লংমার্চ স্থগিতের বিষয়ে হাফিজ নাঈম বলেন, এ সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া সম্ভব নয়। দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পরিষদ মজলিস-ই-শূরার সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের অনুরোধে মার্চ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও সাধারণ মানুষের দাবি আদায়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিবাদের অধিকার থেকে সরে আসবে না।
রবিবার করাচি থেকে শুরু হওয়া ট্রেন মার্চ সোমবার রাতে মুলতানে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা দেরিতে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালেও সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকের সমাগম হয়।
সমাবেশে হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, সরকার তাদের লংমার্চের পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে জনগণের অংশগ্রহণের কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, করাচি থেকে মুলতানসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ তাঁদের অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে।
জামায়াতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুলতান থেকে লাহোর হয়ে কাফেলাটি ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবে। সরকার সড়কে কনটেইনার বসিয়ে আন্দোলন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ নাঈম বলেন, কোনো বাধাই তাদের আন্দোলন থামাতে পারবে না।
তবে পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহার করে সরকার সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিলে জামায়াতে ইসলামী কোনো ‘অহংবোধের লড়াইয়ে’ যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে আন্দোলন থেকে সরে আসার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানান জামায়াত আমির।