মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরান-পাকিস্তান সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।
আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত প্রতিরক্ষামূলক। এর লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
চৌধুরী বলেন, চুক্তিতে কোনো আক্রমণাত্মক, হস্তক্ষেপমূলক বা আগ্রাসী উপাদান নেই। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ, জোট বা কৌশলগত অংশীদারের বিরুদ্ধে করা হয়নি।
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের ওপর এই চুক্তির কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তা মনে করি না, একেবারেই না।’
তিনি বলেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বহু দশকের। জনগণের সঙ্গে জনগণ, সরকার থেকে সরকার এবং সামরিক পর্যায়ে এসব সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সেই দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও আনুষ্ঠানিক কাঠামো দিয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র আরও বলেন, চুক্তিটি চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কেরও পরিপূরক। এটি বেইজিং বা অন্য কোনো কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে করা হয়নি।
চুক্তির কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে পাকিস্তান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির কার্যকরী ও সামরিক দিকগুলো প্রকাশ্যে জানানো হবে না। প্রয়োজন হলে তিন দেশ পরিস্থিতি যৌথভাবে মূল্যায়ন করে প্রতিক্রিয়ার ধরন নির্ধারণ করবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এর আগে জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করা। ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়।
পরবর্তী সময়ে তিন দেশ চুক্তির আওতায় সহযোগিতার কাঠামো আরও শক্তিশালী করার জন্য ধারাবাহিক বৈঠক করবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।