যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ সালের পর প্রথমবার সুদহার বাড়াল ফেডারেল রিজার্ভ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ এএম
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফেডের নীতিনির্ধারণী কমিটি (এফওএমসি) সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে।
ফেডের ওপেন মার্কেট কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটিই প্রথম সুদহার বৃদ্ধি। কমিটি জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। সুদের হার বাড়ানোর এই পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতিকে ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।
তবে সুদহার বাড়ানোর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বিশ্বের ‘সর্বনিম্ন’ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
ফেডের নতুন পূর্বাভাসে দেখা গেছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও এক দফা সুদহার বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন নীতিনির্ধারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। চারজন কর্মকর্তা ধারণা করছেন, বছরের শেষ নাগাদ নীতিগত সুদের হার ৪ দশমিক ২৫ থেকে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বেকারত্ব নিয়ে ফেড কর্মকর্তাদের পূর্বাভাস তুলনামূলক ইতিবাচক হলেও মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরতে প্রায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে। দেশটিতে গ্যাসের দাম গত বছরের তুলনায় গড়ে প্রতি গ্যালনে ১ ডলার বেশি রয়েছে। একই সময়ে বাস, ট্রেন ও ট্রাকে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম সম্প্রতি রেকর্ড সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৩১ ডলারে পৌঁছেছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের প্রভাব পড়েছে মার্কিন বন্ড বাজারেও। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়লে ভোক্তা ও ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হারও বাড়তে পারে।
মূল্যবৃদ্ধির গতি কমাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীর করার জন্য সুদের হার ব্যবহার করে ফেড। সুদের হার বাড়লে বাড়ির ঋণ, গাড়ির কিস্তি, শিক্ষাঋণসহ বিভিন্ন ধরনের ঋণের খরচ বেড়ে যায়।
২০২২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছানোর পর ২০২২ ও ২০২৩ সালে মোট ১১ বার সুদের হার বাড়ায় ফেড। এতে নীতিগত সুদের হার ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ফেড সুদের হার কমানোর পথে হাঁটে।
চলতি বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি বর্তমান মাত্রার তুলনায় ১ শতাংশ কম থাকায় সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছিল। ফেডের অধিকাংশ কর্মকর্তা তখন বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আগস্টে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি থাকায় এবং বেকারত্বের হার স্থিতিশীল থাকায় সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও জরিপে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি আমেরিকানদের প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির সুফল কমিয়ে দিয়েছে এবং ভোক্তাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগস্টে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। আগের মাসের তুলনায় কমেছে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসিক জরিপেও ভোক্তা আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও মূল্যস্ফীতি হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান