EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ মারিবের পথে হুতি বাহিনী

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

ইয়েমেনের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ মারিবের পথে হুতি বাহিনী

ছবি:সংগৃহীত

অ অ

ইয়েমেনের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ প্রদেশ মারিব দখলের চেষ্টায় ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে হুথি বাহিনী। সম্প্রতি পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকা দখলের পর মারিবের দিকে অগ্রসর হচ্ছে হুথি বাহিনী। এদিকে, মারিব শহর রক্ষায় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করেছে সৌদি ও সরকারি বাহিনী।

জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের বিভিন্ন অবস্থানে ৫৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। এছাড়া, তাইজ প্রদেশের কিছু এলাকা থেকে হুথিদের হটিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী।

ইয়েমেনের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ প্রদেশ মারিব। উত্তরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরটি ইয়েমেনি সরকারের অন্যতম আয়ের উৎস। হুথিদের ঠেকাতে কৌশলে পরিবর্তন এনেছে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব ৫৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এফ-১৫ যুদ্ধবিমান দিয়ে এসব আগ্রাসন চালানো হয়েছে বলে দাবি হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির।

মোখা ও তাইজের মতো পশ্চিমাঞ্চলে হারানো এলাকায় অভিযান না চালিয়ে মারিবসহ সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো রক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। মারিবের পতন ঠেকাতে বিমান হামলাসহ পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকারি বাহিনী। ধুবাব ও মোখা এলাকায় হুথিদের সাঁজোয়া যানের ওপর হামলাও করেছে বলে জানা গেছে।

হামলার শঙ্কায় রবিবার ইয়েমেন সীমান্তবর্তী খামিস মুশাইত ও আবহা এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ, যদিও কয়েক ঘণ্টা পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপরই, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক (বিমান) ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে মাসব্যাপী লড়াইয়ে তাদের অন্তত ৫০০ সেনা নিহত ও দেড় হাজারের বেশি আহত হয়েছে। অন্যদিকে, এসব সংঘর্ষে হুথিদের ১ হাজারেরও বেশি যোদ্ধা নিহত ও কয়েক হাজার আহত হয়েছে।

এদিকে ইরান থেকে আমদানি করা সব ধরনের পণ্য ও সামগ্রী দেশে প্রবেশ এবং বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা জানায়, ইয়েমেনের আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থায়নবিষয়ক জাতীয় কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও কমিটির প্রধান আহমেদ গালেব।

কমিটি জানিয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই ইরানি পণ্যের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তবে ঠিক কবে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং ইরানের কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। অন্যদিকে ইয়েমেন সরকারের বাহিনীকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থন করছে।

সূত্র: সাবা

আরও পড়ুন