মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানকে স্যাটেলাইট ছবি দিয়েছিল চীনা প্রতিষ্ঠান
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রাণঘাতী হামলার আগে ইরানকে চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে তথ্যটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে জর্ডানে অবস্থিত ওই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরান চীনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছিল। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে তারা এমন কোনো অভিযোগও করেননি যে, চীন সরকার সরাসরি ইরানের কাছে স্যাটেলাইট ছবি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিল।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, অভিযোগটি চীনের কিছু প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ে; এর মাধ্যমে চীন সরকার সরাসরি ছবি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছিল বা পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় করেছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনা চলার মধ্যেই এমন প্রতিবেদন সামনে এলো। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের বিষয়।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটির গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন বৈঠকে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিষয়টি তুলবেন কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, চীন যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নজরদারি করে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও চীনের ওপর নজরদারি চালায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, শির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো এবং দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে যুক্তিসংগত আচরণ করছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিই ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করে থাকলে, তা ইরানের সামরিক নজরদারি সক্ষমতায় পরোক্ষ সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে হামলার আগে ওই ছবি ইরানের হাতে পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
এ ধরনের সহায়তা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বাণিজ্য ও প্রযুক্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
