EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গকে ‘জামায়াতীকরণ’ করে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানাতে চেয়েছিল তৃণমূল: শুভেন্দু

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

পশ্চিমবঙ্গকে ‘জামায়াতীকরণ’ করে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানাতে চেয়েছিল তৃণমূল: শুভেন্দু

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

অ অ

পশ্চিমবঙ্গকে ‘জামায়াতীকরণ’ করে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কলকাতার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পূজার মণ্ডপ উদ্বোধনকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনামলে সনাতনী সংস্কৃতিকে কোণঠাসা করে বাংলাকে অন্য পথে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, গত ৪৯ বছরের মধ্যে ৩৪ বছর কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় ছিল। তারা ধর্মকে ‘আফিম’ বলত। এরপর ১৫ বছর তৃণমূল বাংলাকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানানোর চেষ্টা করেছে। এখন এমন একটি সরকার এসেছে, যারা হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চায়।

বামফ্রন্ট সরকারের সময় পূজা মণ্ডপের বাইরে বইয়ের স্টলে কার্ল মার্কস ও ভ্লাদিমির লেনিনের বই থাকলেও স্বামী বিবেকানন্দ বা লোকনাথ বাবার বই দেখা যেত না বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সেখানে হনুমান চালিশা বা ভগবদ্গীতাও পাওয়া যেত না।

তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের শাসনামলের শেষ দিকে বাংলাকে ‘জামায়াতীকরণ’ করার চেষ্টা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে মহররমের সঙ্গে দুর্গাপূজার বিসর্জনের দিন মিলে যাওয়ায় এক বছর বিসর্জন সীমিত করার পুরোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, মহররমের কারণে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘কেউ এমনটা করতে পারে না। পঞ্জিকা মেনেই চলতে হবে।’ এভাবে বাংলার ঐতিহ্য ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমানে কারাগারে থাকা রাজ্যের সাবেক এক মন্ত্রীর দুর্গাপূজার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওই মন্ত্রীর দুর্গাপূজার উদ্বোধনে পিতৃপক্ষের সময় উপস্থিত হয়েছিলেন। সনাতনী ঐতিহ্য অনুযায়ী এ সময়কে এমন শুভ অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দুর্গাপূজার উদ্বোধন মাতৃপক্ষে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে মহাঅষ্টমীর সময় পূজার ‘পরম পবিত্রতা’ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

দেশভাগের স্মৃতিচারণ করে শুভেন্দু বলেন, হিন্দু পরিচয়ের কারণে তাঁর মা তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বরিশাল থেকে প্রায় সবকিছু ফেলে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গকে বাঙালি হিন্দুদের ‘মাতৃভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ গঠিত হয়। ভাষা ও জাতিগত পরিচয়ের পার্থক্য ভুলে সব সনাতনীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণেশ পূজার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, আগে পশ্চিমবঙ্গে এত বেশি গণেশ পূজা হতো না। অনেকে মনে করতেন, এটি শুধু মহারাষ্ট্রের উৎসব। কিন্তু তাঁর মতে, গণেশ পূজা বিশ্বের সব সনাতনীর জন্য।

মা দুর্গার ক্ষেত্রেও একই কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে মনে করতেন মা দুর্গা শুধু কলকাতার। কিন্তু তিনি সব সনাতনীর দেবী।

হিন্দিভাষী, গুজরাটি, বাঙালি ও মাড়োয়ারিদের মধ্যে বিভেদের দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর ভাষায়, শেষ পর্যন্ত সবাই ভারতীয়।

বাঙালি হিন্দুদের আবাসস্থল হিসেবে বাংলাকে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, তাঁর সরকার ‘বহুজন সুখায়, বহুজন হিতায়’—সবার সুখ ও কল্যাণের নীতিতে বিশ্বাসী।

আরও পড়ুন