যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ! ইউক্রেনের নতুন পরিকল্পনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ব্যয় মেটাতে রাজস্ব বাড়ানোর নতুন পথ খুঁজছে ইউক্রেন। এর অংশ হিসেবে দেশটিতে পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট বৈধ করার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের ধারণা, এ খাতকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনলে বছরে কোটি কোটি ডলার কর আদায় করা সম্ভব হতে পারে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াকের সমর্থিত একটি বিলে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্পকে বৈধ অর্থনীতির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এ খাত থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর আদায় হতে পারে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থ দিয়ে বছরে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব হতে পারে। ঝেলেজনিয়াকের মতে, চলমান যুদ্ধের সময়ে অতিরিক্ত এই রাজস্ব ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ ও ছড়িয়ে দেওয়া বেআইনি। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আইন থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ব্যবসা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় এ ব্যবসা পরিচালিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি দেশটির কর কর্তৃপক্ষ প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট তৈরি করে আয় করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কর আদায়ের উদ্যোগ নেয়। এতে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। কারণ, আয় ঘোষণা করে কর দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এমন কনটেন্ট তৈরির বিষয় স্বীকার করতে হচ্ছে, যা বর্তমান আইনে বেআইনি।
ঝেলেজনিয়াক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, কর না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কর ফাঁকির মামলায় পড়তে পারেন। আবার কর দিলে বেআইনি কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে ফৌজদারি মামলার ঝুঁকি রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি একটি ‘দুঃখজনক ও হাস্যকর পরিস্থিতি’।
এদিকে ইউক্রেনে অনলাইনভিত্তিক প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের বাজারও বড়। জার্নালের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটির প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন অনলি ফ্যানসের মাধ্যমে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন।
কর আদায়ের উদ্যোগের পর কয়েকজন কনটেন্ট নির্মাতা আইনি জটিলতায় পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনলি ফ্যানসের কনটেন্ট নির্মাতা স্বিতলানা দভোরনিকোভা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ অর্থ, ল্যাপটপ ও হার্ডড্রাইভ নিয়ে যায়। মামলা বন্ধের বিনিময়ে তাঁকে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
দভোরনিকোভা পরে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে আবেদন করেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘সচেতন করদাতা’ উল্লেখ করে প্রায় ৯ লাখ ডলার কর দিতে প্রস্তুত বলে জানান। তবে কর দেওয়ার পরও যেন তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করা হয়, সে আহ্বান জানান তিনি।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর আবেদনে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি স্বাক্ষর জমা হয়। এরপর জেলেনস্কি জানান, পর্নোগ্রাফি বৈধ করার বিষয়ে ঝেলেজনিয়াকের প্রস্তাব পার্লামেন্টে বিবেচনা করা হবে।
ঝেলেজনিয়াকসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার যৌথভাবে তৈরি করা বিলটি জুলাইয়ে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে প্রথম দফায় অনুমোদন পেয়েছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্প আইনি কাঠামোর মধ্যে আসতে পারে। এতে সরকার এ খাত থেকে নিয়মিত কর আদায়ের সুযোগ পাবে।
ঝেলেজনিয়াকের হিসাবে, বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার রাজস্ব আসতে পারে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে অতিরিক্ত এই অর্থ ইউক্রেনের সামরিক ব্যয়ে ব্যবহার করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা মনে করছেন।