ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মস্কোয় ট্রাম্পের দুই বিশেষ প্রতিনিধি
মস্কো সফর শেষে রবিবার ইউক্রেন যাবেন মার্কিন দুই প্রতিনিধি উইটকফ ও কুশনার
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
মস্কো বিমানবন্দরে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে স্বাগত জানান কিরিল দিমিত্রিয়েভ।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার লক্ষ্যে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। সফর সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফ ও তার জামাতা কুশনার মস্কো বিমানবন্দরে পৌঁছান।
রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, উইটকফ, কুশনার ও দিমিত্রিয়েভকে বহনকারী একটি গাড়িবহর মস্কোর সরকারি বিমানবন্দর ছেড়ে শহরের দিকে রওনা হয়।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়ে জানান, পঞ্চম বছরে গড়ানো ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি ঠিক কী ধরনের, সে বিষয়ে তিনি বিশদ কিছু বলেননি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার জানান, মস্কো সফর শেষ করে আগামীকাল রবিবার এই দুই মার্কিন প্রতিনিধি ইউক্রেন সফরে আসবেন। তবে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, মার্কিন দূতদের কিয়েভ সফরের আগেই ইউক্রেনের দুটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
গত জুন মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিমিত্রিয়েভ জানিয়েছিলেন, রাশিয়ায় মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর সাময়িক স্থগিত থাকলেও তিনি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের আগের সব বৈঠকেই অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া চলতি বছর রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা ছাড় সংক্রান্ত সমঝোতায় ভূমিকা রেখেছিলেন দিমিত্রিয়েভ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এবং প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ কীভাবে বন্ধ করা যায়—তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এখনো ব্যাপক দূরত্ব রয়ে গেছে। ক্রেমলিন শুক্রবার পুনর্ব্যক্ত করে, দুই বছর আগে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পুতিন যে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন তাতে তিনি ‘অটল’ রয়েছেন। ওই ভাষণে পুতিন শর্ত দিয়েছিলেন, রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চলের পুরো ভূখণ্ড ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।
সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ট্রাম্পের উদ্যোগে। তবে এরপর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র করেছে, পাশাপাশি সমুদ্রপথেও সংঘাত ব্যাপক বেড়েছে।